ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে সশরীরে তলব

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা চালুর বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রার আয়ুব হোসেনকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ সম্প্রতি এই নির্দেশনা জারি করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফার চাকরির স্থায়ী নিয়োগ আদেশ বাতিল করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিগত ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর তাকে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার আখ্যা দিয়ে একটি বিতর্কিত তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়। এর বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে হাইকোর্ট তার চাকুরিচ্যুতির অফিস আদেশকে (নিয়োগ আদেশ বাতিল) অবৈধ ঘোষণা করেন।

বাদি পক্ষের আইনজীবী বেলায়েত হোসেন জানান, উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ড. আবু হানিফাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে এবং দাপ্তরিক দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন কৌশলে তার বেতন-ভাতা আটকে রাখা হয়। এ বিষয়ে উচ্চ আদালত গত বছরের মে মাসে এক রায়ে তার যোগদানের তারিখ থেকে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদানের আদেশ জারি করে।

আইনজীবী আরও জানান, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত’ শর্ত দিয়ে বিষয়টিকে ধোঁয়াশার মধ্যে রাখে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার যোগদান গৃহিতপত্র বাতিল করলে মহামান্য হাইকোর্ট ওই বাতিল আদেশটিকেও অবৈধ ঘোষণা করে স্থগিতাদেশসহ নির্দেশনা জারি করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্থগিতকৃত আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে গত ৬ জানুয়ারি ‘নো অর্ডার’ দিয়ে আপিলটি খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

ড. মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা না দেওয়ায় গত বছরের ২০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. শামুল আলম এবং রেজিস্ট্রার আয়ুব হোসেনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না, সে বিষয়ে একটি রুল জারি করেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত একই বেঞ্চ।

সর্বশেষ শুনানিতে হাইকোর্ট নির্দেশনা অনুযায়ী উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা প্রদানের বিষয়টি বাস্তবায়ন না করায় এবং উচ্চ আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের দায়ে রেজিস্ট্রার আয়ুব হোসেনকে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে সশরীরে কোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মকে আগ্রহী করে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে সশরীরে তলব

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা চালুর বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রার আয়ুব হোসেনকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ সম্প্রতি এই নির্দেশনা জারি করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফার চাকরির স্থায়ী নিয়োগ আদেশ বাতিল করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিগত ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর তাকে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার আখ্যা দিয়ে একটি বিতর্কিত তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়। এর বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে হাইকোর্ট তার চাকুরিচ্যুতির অফিস আদেশকে (নিয়োগ আদেশ বাতিল) অবৈধ ঘোষণা করেন।

বাদি পক্ষের আইনজীবী বেলায়েত হোসেন জানান, উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ড. আবু হানিফাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে এবং দাপ্তরিক দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন কৌশলে তার বেতন-ভাতা আটকে রাখা হয়। এ বিষয়ে উচ্চ আদালত গত বছরের মে মাসে এক রায়ে তার যোগদানের তারিখ থেকে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদানের আদেশ জারি করে।

আইনজীবী আরও জানান, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত’ শর্ত দিয়ে বিষয়টিকে ধোঁয়াশার মধ্যে রাখে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার যোগদান গৃহিতপত্র বাতিল করলে মহামান্য হাইকোর্ট ওই বাতিল আদেশটিকেও অবৈধ ঘোষণা করে স্থগিতাদেশসহ নির্দেশনা জারি করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্থগিতকৃত আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে গত ৬ জানুয়ারি ‘নো অর্ডার’ দিয়ে আপিলটি খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

ড. মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা না দেওয়ায় গত বছরের ২০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. শামুল আলম এবং রেজিস্ট্রার আয়ুব হোসেনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না, সে বিষয়ে একটি রুল জারি করেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত একই বেঞ্চ।

সর্বশেষ শুনানিতে হাইকোর্ট নির্দেশনা অনুযায়ী উপ-রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু হানিফার বেতন-ভাতা প্রদানের বিষয়টি বাস্তবায়ন না করায় এবং উচ্চ আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের দায়ে রেজিস্ট্রার আয়ুব হোসেনকে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে সশরীরে কোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।