ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লবে চাঁনখারপুলে ৬ হত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় শাহরিয়ার খান আনাসসহ ছয়জনকে হত্যার দায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আদালত অন্য পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। মামলায় অভিযুক্ত আট আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি চারজন পলাতক।

আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন— ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলাম। এছাড়া অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ডিএমপির রমনা জোনের সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুলকে ৬ বছর এবং শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশনস) আরশাদ হোসেনকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসীরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

কারাগারে থাকা আরশাদ, সুজন, ইমাজ ও নাসিরুলকে রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রাখা হয়েছে। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। যদিও ২০ জানুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল, তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে আজ পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউটর গাজী তামীম রায়ের পর গণমাধ্যমকে জানান, রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় ২৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ছাড়াও বিপুল পরিমাণ অডিও-ভিডিও ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। প্রমাণের তালিকায় শেখ হাসিনা ও শেখ ফজলে নূর তাপসের কথোপকথনের রেকর্ড, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের ওয়্যারলেস বার্তার অডিও এবং পুলিশের গুলিবর্ষণের ভিডিও ফুটেজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া ঘটনার দিন যেসব পুলিশ সদস্যকে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা গুলি চালাননি, তারাও ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই কঠোর দণ্ড দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে পলাতক আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল এই প্রক্রিয়ার প্রথম রায় ঘোষণা করেছিলেন। সেই রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। চাঁনখারপুলের এই রায়টি জুলাই বিপ্লব কেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় রায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উজিরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৫ পরিবারের স্বপ্ন ভস্ম, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

জুলাই বিপ্লবে চাঁনখারপুলে ৬ হত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ১২:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় শাহরিয়ার খান আনাসসহ ছয়জনকে হত্যার দায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আদালত অন্য পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। মামলায় অভিযুক্ত আট আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি চারজন পলাতক।

আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন— ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলাম। এছাড়া অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ডিএমপির রমনা জোনের সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুলকে ৬ বছর এবং শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশনস) আরশাদ হোসেনকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসীরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

কারাগারে থাকা আরশাদ, সুজন, ইমাজ ও নাসিরুলকে রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রাখা হয়েছে। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। যদিও ২০ জানুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল, তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে আজ পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউটর গাজী তামীম রায়ের পর গণমাধ্যমকে জানান, রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় ২৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ছাড়াও বিপুল পরিমাণ অডিও-ভিডিও ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। প্রমাণের তালিকায় শেখ হাসিনা ও শেখ ফজলে নূর তাপসের কথোপকথনের রেকর্ড, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের ওয়্যারলেস বার্তার অডিও এবং পুলিশের গুলিবর্ষণের ভিডিও ফুটেজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া ঘটনার দিন যেসব পুলিশ সদস্যকে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা গুলি চালাননি, তারাও ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই কঠোর দণ্ড দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে পলাতক আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল এই প্রক্রিয়ার প্রথম রায় ঘোষণা করেছিলেন। সেই রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। চাঁনখারপুলের এই রায়টি জুলাই বিপ্লব কেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় রায়।