সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার এবং তার স্বামী মোশাররফ হোসেন সরদারের আয়কর সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুদকের উপ-পরিচালক রাসেদুল ইসলাম সাবেক এই সংসদ সদস্য ও তার স্বামীর আয়কর নথি জব্দের জন্য পৃথক দুটি আবেদন জমা দেন। শুনানিতে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রুবিনা আক্তার সংসদ সদস্য থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ নামে ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ৫৭ লাখ ১৮ হাজার ৪৪ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার ব্যাংক হিসাবগুলোতে ১৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৯৬৪ টাকার সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় গত বছরের ১৪ মে দুদকের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার তদন্ত কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য রুবিনা আক্তারের কর প্রদানের শুরু থেকে সর্বশেষ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্নের মূল কপিসহ সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন।
অন্যদিকে, রুবিনা আক্তারের স্বামী মোশাররফ হোসেন সরদারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মাধ্যমে ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার ব্যাংক হিসাবে ১৮ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ৪০৪ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। তিনি নিজেও একজন আয়কর দাতা হওয়ায় তার আয়কর নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডসমূহ তদন্তের স্বার্থে জব্দ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে দুদক।
আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে দুদকের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং অভিযুক্তদের আয়কর সংক্রান্ত সকল রেকর্ডপত্র জব্দের নির্দেশ প্রদান করেন। এর ফলে সাবেক এই সংসদ সদস্য ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে চলমান অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 

























