দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তপথ দিয়ে বর্তমানে বানের মতো ঢুকছে নেশাজাতীয় নানা সামগ্রী। আন্তর্দেশীয় মাদক চোরাকারবারিরা এই রুটে এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, ইয়াবা, মদ, গাঁজা ও ফেনসিডিলের পাশাপাশি এখন আইস ক্রিস্টাল, এলএসডি এবং মেথের মতো উচ্চমূল্যের মাদকও নিয়মিত পাচার হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে। একদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জনবল সংকটের অজুহাত দিচ্ছে, অন্যদিকে বিজিবি প্রায় প্রতিদিনই মাদকের চালান জব্দ করলেও মূল হোতা বা গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা ঘেঁষে ভারতের সাথে থাকা ১৪৫ কিলোমিটার সীমান্তের কিছু অংশ অরক্ষিত থাকা এই মাদক পাচারের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে মহেশপুরের সামন্তা ও পলিয়ানপুর এবং চুয়াডাঙ্গার ফুলবাড়ী সীমান্তে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই। এই সুযোগে ওপার বাংলার নদীয়া ও ২৪ পরগনার হাসখালী ও বাগদা থানার মাদক ঘাটগুলো থেকে সহজেই মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। গ্রামবাসী ও সিন্ডিকেট সদস্যরা রাতের আঁধারে কাঁটাতারের ওপর দিয়ে কিংবা সুড়ঙ্গ পথ ব্যবহার করে মাদক পাচার করছে। এমনকি টাকা লেনদেনের জন্য তারা ডিজিটাল প্রযুক্তি ও হুন্ডির ওপর নির্ভর করছে।
মাদক পরিবহনের ক্ষেত্রে চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত অভিনব সব পদ্ধতি ব্যবহার করছে। বাস, ট্রাক বা অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি এখন ডাব, মিষ্টিকুমড়া এবং মাছের পেটেও মাদক পাচার হচ্ছে। এমনকি শিশু ও নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রাপকের সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে নিরাপদ পার্সেল হিসেবেও মাদক পৌঁছে যাচ্ছে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। ঝিনাইদহ শহর থেকে শুরু করে শৈলকুপা, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের বস্তি থেকে শপিংমলের ছাদ—সবখানেই এখন মাদকের রমরমা কারবার।
সরকারি তালিকায় থাকা গডফাদারদের নাম থাকলেও বাস্তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা পাঠানো হলেও তারা বর্তমানে রং বদলে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ মো. হাশেম আলী জানান, চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে সাপ্লাই চেইনগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জনসচেতনতা এবং সমন্বিত অভিযান ছাড়া এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























