ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চব্বিশের বিপ্লবীদের ব্যালট যুদ্ধ: ৪ কোটি তরুণই কি হবে ত্রয়োদশ নির্বাচনের গেম চেঞ্জার?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ এবার ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৩২ লাখ তরুণ ভোটারের আঙুলের ডগায়। ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী এই বিশাল জনগোষ্ঠী, যারা মোট ভোটারের এক-তৃতীয়াংশ, তাঁদের মন জয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এখন ডিজিটাল ও মাঠপর্যায়ে মরিয়া লড়াই চালাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার বঞ্চিত থাকা এই ‘জেন-জি’ প্রজন্মই মূলত চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চালিকাশক্তি ছিল, যারা এখন রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ব্যালট পেপারে নিজেদের রায় দিতে মুখিয়ে আছে।

তরুণদের এই বিশাল ভোটব্যাংককে নিজেদের বাক্সে টানতে বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এক কোটি কর্মসংস্থান ও বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতি দিলেও জামায়াতে ইসলামী নজর দিয়েছে ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ ও সুদমুক্ত শিক্ষাঋণের ওপর। অন্যদিকে, আন্দোলনের ফসল হিসেবে গড়ে ওঠা এনসিপি তরুণদের আবেগ ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে পুঁজি করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৩৮ শতাংশ তরুণ ভোটারের ঝোঁক বিএনপির দিকে থাকলেও জামায়াত ও এনসিপিও তরুণদের একটি বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছে।

তবে তরুণদের এই সমর্থন কেবল রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করছে না। তারা প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তি এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের সামর্থ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রযুক্তিপ্রেমী এই প্রজন্ম সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রার্থীদের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যা চিরাচরিত প্রচারণার ধরনে আমূল পরিবর্তন এনেছে। শেষ পর্যন্ত ৪ কোটি তরুণের এই ‘সাইলেন্ট মেজরিটি’ যার বাক্সে ভোট দেবে, আগামী দিনে বাংলাদেশের ক্ষমতার মঞ্চে তাঁর অভিষেকই হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

চব্বিশের বিপ্লবীদের ব্যালট যুদ্ধ: ৪ কোটি তরুণই কি হবে ত্রয়োদশ নির্বাচনের গেম চেঞ্জার?

আপডেট সময় : ১০:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ এবার ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৩২ লাখ তরুণ ভোটারের আঙুলের ডগায়। ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী এই বিশাল জনগোষ্ঠী, যারা মোট ভোটারের এক-তৃতীয়াংশ, তাঁদের মন জয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এখন ডিজিটাল ও মাঠপর্যায়ে মরিয়া লড়াই চালাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার বঞ্চিত থাকা এই ‘জেন-জি’ প্রজন্মই মূলত চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চালিকাশক্তি ছিল, যারা এখন রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ব্যালট পেপারে নিজেদের রায় দিতে মুখিয়ে আছে।

তরুণদের এই বিশাল ভোটব্যাংককে নিজেদের বাক্সে টানতে বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এক কোটি কর্মসংস্থান ও বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতি দিলেও জামায়াতে ইসলামী নজর দিয়েছে ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ ও সুদমুক্ত শিক্ষাঋণের ওপর। অন্যদিকে, আন্দোলনের ফসল হিসেবে গড়ে ওঠা এনসিপি তরুণদের আবেগ ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে পুঁজি করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৩৮ শতাংশ তরুণ ভোটারের ঝোঁক বিএনপির দিকে থাকলেও জামায়াত ও এনসিপিও তরুণদের একটি বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছে।

তবে তরুণদের এই সমর্থন কেবল রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করছে না। তারা প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তি এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের সামর্থ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রযুক্তিপ্রেমী এই প্রজন্ম সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রার্থীদের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যা চিরাচরিত প্রচারণার ধরনে আমূল পরিবর্তন এনেছে। শেষ পর্যন্ত ৪ কোটি তরুণের এই ‘সাইলেন্ট মেজরিটি’ যার বাক্সে ভোট দেবে, আগামী দিনে বাংলাদেশের ক্ষমতার মঞ্চে তাঁর অভিষেকই হবে বলে মনে করা হচ্ছে।