গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এই প্রথম নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে বক্তব্য দিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এক অডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন। ভাষণে তিনি নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অবৈধ, সহিংস ও বিদেশি স্বার্থে পরিচালিত একটি পুতুল সরকার’ হিসেবে অভিহিত করেন। শেখ হাসিনার দাবি, এই সরকার বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে এবং দেশ বর্তমানে গভীর অন্ধকারের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।
ভরা মিলনায়তনে সম্প্রচারিত ওই অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা ৫ আগস্টের ঘটনাকে একটি ‘সুনিপুণ সাজানো ষড়যন্ত্র’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনামলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নির্বাসিত হয়েছে এবং মানবাধিকার সম্পূর্ণ ভূলুণ্ঠিত। নারী, শিশু ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর লাগামহীন সহিংসতার পাশাপাশি দেশজুড়ে লুটপাট ও চাঁদাবাজি চলছে বলে তিনি দাবি করেন। অধ্যাপক ইউনূসকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সংবাদমাধ্যমের ওপর চলা ‘নিপীড়ন’ বন্ধের দাবি জানান। দলটিকে বাংলাদেশের একমাত্র বৈধ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সমর্থকদের হারানো সমৃদ্ধ স্বদেশ ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষে শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন। তাঁর প্রথম দাবি হলো ইউনূস সরকারের অপসারণ, কারণ তাঁর মতে এই প্রশাসনের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশব্যাপী সহিংসতা বন্ধ করা, নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ করে বিচার বিভাগকে নিরপেক্ষ রাখা এবং গত এক বছরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি ‘প্রকৃত নিরপেক্ষ তদন্ত’ পরিচালনা করা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে বলে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























