ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে শুরু হলো ভোটের চূড়ান্ত পর্ব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রণা। গতকাল বুধবার ২৯৮টি আসনে ১ হাজার ৯৭২ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হওয়ার পর থেকেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার লড়াই শুরু করেছেন প্রার্থীরা। তবে প্রচারের প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক উত্তেজনা, হামলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পুরো পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘাত এবং একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ চলছে।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও সংস্কার কমিশনের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে মাঠপর্যায়ে যে ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন ছিল, তাতে এখনো ঘাটতি রয়েছে। নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, নির্বাচন ভণ্ডুল করার জন্য কোনো মহলের অপচেষ্টা থাকতে পারে, তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে রাজধানীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড এবং চট্টগ্রামের রাউজানে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ভোটারদের মনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমীন টুলী মনে করেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন এখনো ভোটারদের মধ্যে সেই কাঙ্ক্ষিত ‘নিরাপদ বোধ’ তৈরি করতে পারেনি, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ভরসা পান।

মাঠে প্রচারণার দৌড়ে আজ থেকে শীর্ষ নেতারা ভিন্ন ভিন্ন রণকৌশল নিয়ে নামছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন, যেখানে তিনি শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে বড় সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করেন। অন্যদিকে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে গণসংযোগের মাধ্যমে মাঠে নেমেছেন এবং তাঁর দলের কর্মীরা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তরুণদের প্ল্যাটফর্ম এনসিপি-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তিন কিংবদন্তি নেতার মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে প্রচারের শুরুতেই এনসিপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কড়াইল বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এবারের নির্বাচনে ৮ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ১৭ লাখ নির্বাচনকর্মী কাজ করবেন। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, প্রচারণার ২০ দিনে যদি কেউ আইনের ব্যত্যয় ঘটায় তবে প্রার্থিতা বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও গত বুধবারের উচ্চপর্যায়ের সভায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোট হবে একটি জাতীয় পরীক্ষা, যেখানে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এখন দেখার বিষয়, আগামী ২০ দিন প্রার্থীরা কতটা সহনশীল থেকে ভোটারদের মন জয় করতে পারেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে শুরু হলো ভোটের চূড়ান্ত পর্ব

আপডেট সময় : ১১:২৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রণা। গতকাল বুধবার ২৯৮টি আসনে ১ হাজার ৯৭২ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হওয়ার পর থেকেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার লড়াই শুরু করেছেন প্রার্থীরা। তবে প্রচারের প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক উত্তেজনা, হামলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পুরো পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘাত এবং একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ চলছে।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও সংস্কার কমিশনের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে মাঠপর্যায়ে যে ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন ছিল, তাতে এখনো ঘাটতি রয়েছে। নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, নির্বাচন ভণ্ডুল করার জন্য কোনো মহলের অপচেষ্টা থাকতে পারে, তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে রাজধানীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড এবং চট্টগ্রামের রাউজানে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ভোটারদের মনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমীন টুলী মনে করেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন এখনো ভোটারদের মধ্যে সেই কাঙ্ক্ষিত ‘নিরাপদ বোধ’ তৈরি করতে পারেনি, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ভরসা পান।

মাঠে প্রচারণার দৌড়ে আজ থেকে শীর্ষ নেতারা ভিন্ন ভিন্ন রণকৌশল নিয়ে নামছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন, যেখানে তিনি শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে বড় সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করেন। অন্যদিকে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে গণসংযোগের মাধ্যমে মাঠে নেমেছেন এবং তাঁর দলের কর্মীরা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তরুণদের প্ল্যাটফর্ম এনসিপি-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তিন কিংবদন্তি নেতার মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে প্রচারের শুরুতেই এনসিপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কড়াইল বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এবারের নির্বাচনে ৮ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ১৭ লাখ নির্বাচনকর্মী কাজ করবেন। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, প্রচারণার ২০ দিনে যদি কেউ আইনের ব্যত্যয় ঘটায় তবে প্রার্থিতা বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও গত বুধবারের উচ্চপর্যায়ের সভায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোট হবে একটি জাতীয় পরীক্ষা, যেখানে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এখন দেখার বিষয়, আগামী ২০ দিন প্রার্থীরা কতটা সহনশীল থেকে ভোটারদের মন জয় করতে পারেন।