ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গুম পুরো সমাজকে শাস্তি দেওয়ার নামান্তর: চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, গুমের মতো ভয়াবহ অপরাধ কেবল নির্দিষ্ট কোনো ভুক্তভোগীর ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি পুরো সমাজকে এক চরম শাস্তির মুখে ঠেলে দেয়। একজন মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারকে প্রতিদিন যে অনিশ্চয়তা ও বিচারহীনতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা এক প্রকার অদৃশ্য কারাগারের সমান।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই সেল) গুম ও অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর প্রাক্কালে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সূচনা বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

চিফ প্রসিকিউটর তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিগত দেড় দশকের শাসনামলে গুমের ঘটনাগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো মানুষের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ছিল না। এটি ছিল তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য ছিল কেবল মানুষকে হত্যা করে লাশ গুম করা নয়, বরং বিরোধী মতাদর্শের হাজার হাজার মানুষকে ‘জ্যান্ত লাশ’ বানিয়ে অক্ষম করে রাখা।

তিনি ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করেন যে, আলো-বাতাসহীন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে হাত-পা বেঁধে মাসের পর মাস বিনা বিচারে বন্দি রাখার এই নিষ্ঠুর প্রক্রিয়া সমাজে এক দীর্ঘস্থায়ী ভীতি ও ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। তাজুল ইসলাম আরও বলেন, এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতরেও এই অপসংস্কৃতি গভীরভাবে প্রবেশ করানো হয়েছিল। এর ফলে রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে এক বিচারহীনতার সংস্কৃতি জেঁকে বসেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে অনুমোদনহীন এলপিজি পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দগ্ধ ১৫, পুড়লো অর্ধশতাধিক ঘর ও ১৫ গাড়ি

গুম পুরো সমাজকে শাস্তি দেওয়ার নামান্তর: চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

আপডেট সময় : ১০:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, গুমের মতো ভয়াবহ অপরাধ কেবল নির্দিষ্ট কোনো ভুক্তভোগীর ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি পুরো সমাজকে এক চরম শাস্তির মুখে ঠেলে দেয়। একজন মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারকে প্রতিদিন যে অনিশ্চয়তা ও বিচারহীনতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা এক প্রকার অদৃশ্য কারাগারের সমান।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই সেল) গুম ও অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর প্রাক্কালে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সূচনা বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

চিফ প্রসিকিউটর তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিগত দেড় দশকের শাসনামলে গুমের ঘটনাগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো মানুষের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ছিল না। এটি ছিল তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য ছিল কেবল মানুষকে হত্যা করে লাশ গুম করা নয়, বরং বিরোধী মতাদর্শের হাজার হাজার মানুষকে ‘জ্যান্ত লাশ’ বানিয়ে অক্ষম করে রাখা।

তিনি ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করেন যে, আলো-বাতাসহীন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে হাত-পা বেঁধে মাসের পর মাস বিনা বিচারে বন্দি রাখার এই নিষ্ঠুর প্রক্রিয়া সমাজে এক দীর্ঘস্থায়ী ভীতি ও ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। তাজুল ইসলাম আরও বলেন, এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতরেও এই অপসংস্কৃতি গভীরভাবে প্রবেশ করানো হয়েছিল। এর ফলে রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে এক বিচারহীনতার সংস্কৃতি জেঁকে বসেছিল।