ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানি ৯ ফেব্রুয়ারি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রদ্রোহ ও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অধিকতর চার্জ গঠন (অভিযোগ গঠন) শুনানির জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। কথিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ গঠন করে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুস সালাম শুনানির এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিন মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানি করেন। অন্যদিকে, কারাগারে থাকা বেশ কয়েকজন আসামির আইনজীবীরা তাঁদের মক্কেলদের মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জানান। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে পরবর্তী শুনানির জন্য ফেব্রুয়ারির ওই তারিখটি নির্দিষ্ট করেন।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২৮৬ জন আসামির মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫৯ জন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৭ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ গঠন করে জুম মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে দেশে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর এবং তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৫৭৭ জন ব্যক্তি ওই ভার্চ্যুয়াল সভায় যুক্ত হন এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক আলোচনা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী অংশ নেন। সেখানে বৈধ সরকারকে কাজ করতে না দেওয়া এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। বিষয়টি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে গত ১৪ আগস্ট সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস শাখার সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে অভিযুক্ত করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এই মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলম, কবিরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রুবিনা আক্তার, পংকজ নাথ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান ও আক্তারুজ্জামানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা যুদ্ধের প্রভাবে ইসরায়েলে মাদকাসক্তি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানি ৯ ফেব্রুয়ারি

আপডেট সময় : ০৩:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রদ্রোহ ও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অধিকতর চার্জ গঠন (অভিযোগ গঠন) শুনানির জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। কথিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ গঠন করে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুস সালাম শুনানির এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিন মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানি করেন। অন্যদিকে, কারাগারে থাকা বেশ কয়েকজন আসামির আইনজীবীরা তাঁদের মক্কেলদের মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জানান। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে পরবর্তী শুনানির জন্য ফেব্রুয়ারির ওই তারিখটি নির্দিষ্ট করেন।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২৮৬ জন আসামির মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫৯ জন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৭ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ গঠন করে জুম মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে দেশে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর এবং তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৫৭৭ জন ব্যক্তি ওই ভার্চ্যুয়াল সভায় যুক্ত হন এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক আলোচনা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী অংশ নেন। সেখানে বৈধ সরকারকে কাজ করতে না দেওয়া এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। বিষয়টি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে গত ১৪ আগস্ট সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস শাখার সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে অভিযুক্ত করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এই মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলম, কবিরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রুবিনা আক্তার, পংকজ নাথ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান ও আক্তারুজ্জামানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।