মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাত বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় নতুন করে অস্থিরতা ও ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের শত শত পাহাড়ি যুবক বর্তমানে আরাকান আর্মির পক্ষে মিয়ানমারে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে এসব যুবক অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও যুদ্ধের মানসিকতা নিয়ে দেশে ফিরে আসছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এই যুবকরা ড্রোন প্রযুক্তি ও ভারী অস্ত্র পরিচালনায় দক্ষ হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধফেরত এই প্রশিক্ষিত গোষ্ঠী ভবিষ্যতে পাহাড়ি অঞ্চলে সশস্ত্র মিলিশিয়া বা চরমপন্থি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারে। এতে করে অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলার অবনতিসহ মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আরাকান আর্মির যুদ্ধ-অর্থনীতির অন্যতম উৎস হলো ইয়াবার মতো মাদকের কারবার, যা এই পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ছে।
বর্তমানে রাখাইনের প্রায় ২৭১ কিলোমিটার এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে জান্তা বাহিনী একদিকে যেমন রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিচ্ছে, অন্যদিকে জিরো লাইনে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে স্থলমাইন পুঁতে রাখছে। এই মাইন বিস্ফোরণে গত কয়েক দিনেও টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে একাধিক বাংলাদেশি নাগরিক পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্ত এলাকায় ‘অ্যান্টি-ড্রোন’ প্রযুক্তি স্থাপন এবং সন্দেহভাজন যুদ্ধফেরত যুবকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত পেরিয়ে আসা এই অস্থিরতা কেবল সামরিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের এই বর্তমান সময়কাল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। সীমান্ত দিয়ে নতুন করে রোহিঙ্গা বা সশস্ত্র কোনো গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফ ও বান্দরবান সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে যৌথ বাহিনীর সমন্বিত টহল ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























