ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে ৪৪ পুলিশ নিহতের ঘটনায় ২০টি মামলা

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশে সহিংসতায় ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০টি পৃথক হত্যা মামলা করা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে নিহতদের স্বজন ও পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করলেও বিষয়টি এতদিন অনেকটা গোপনেই রাখা হয়েছিল। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৩ জন পরিদর্শক, ১২ জন এসআই, ৬ জন এএসআই এবং ২২ জন কনস্টেবল রয়েছেন। ২০ জুলাই থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দিন ৫ আগস্টেই প্রাণ হারান ২৪ জন পুলিশ সদস্য।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজারবাগে আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের ক্ষোভ প্রশমন এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দূর করার লক্ষ্যেই এসব মামলা রেকর্ড করা হয়। এছাড়া পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে পুলিশ নিহতের সংখ্যা নিয়ে ছড়ানো নানা প্রোপাগান্ডা ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় সঠিক তথ্যগত প্রমাণ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেও এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এক বার্তায় পুলিশ নিহতের সংখ্যা নিয়ে কোনো ধরনের গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল এবং প্রকৃত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল।

তবে গত ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন করেছে। এই অধ্যাদেশের ফলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে রাজনৈতিক প্রতিরোধের সময় সংঘটিত কার্যাবলির জন্য আন্দোলনকারীরা আইনি দায়মুক্তি পাবেন। ফলে বিদ্যমান ফৌজদারি মামলাগুলো প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত হয়েছে এবং এসব ঘটনায় নতুন করে কোনো মামলা করা যাবে না। তবে ব্যক্তিগত লোভ বা সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো এই দায়মুক্তির আওতার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

তদন্ত ও মামলা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায়। এছাড়া ডিএমপিতে কর্মরত ১৪ জন এবং সোনাইমুড়ী, তিতাস ও বানিয়াচং থানায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তিতাস থানায় নিহত এসআই রেজাউলের স্ত্রী এবং যাত্রাবাড়ীতে নিহত কনস্টেবল আবদুল মজিদের স্ত্রীসহ অনেক স্বজনই অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও থানাগুলোতে নথিবদ্ধ হওয়া মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে ৪৪ পুলিশ নিহতের ঘটনায় ২০টি মামলা

আপডেট সময় : ০১:১৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশে সহিংসতায় ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০টি পৃথক হত্যা মামলা করা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে নিহতদের স্বজন ও পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করলেও বিষয়টি এতদিন অনেকটা গোপনেই রাখা হয়েছিল। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৩ জন পরিদর্শক, ১২ জন এসআই, ৬ জন এএসআই এবং ২২ জন কনস্টেবল রয়েছেন। ২০ জুলাই থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দিন ৫ আগস্টেই প্রাণ হারান ২৪ জন পুলিশ সদস্য।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজারবাগে আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের ক্ষোভ প্রশমন এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দূর করার লক্ষ্যেই এসব মামলা রেকর্ড করা হয়। এছাড়া পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে পুলিশ নিহতের সংখ্যা নিয়ে ছড়ানো নানা প্রোপাগান্ডা ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় সঠিক তথ্যগত প্রমাণ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেও এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এক বার্তায় পুলিশ নিহতের সংখ্যা নিয়ে কোনো ধরনের গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল এবং প্রকৃত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল।

তবে গত ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন করেছে। এই অধ্যাদেশের ফলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে রাজনৈতিক প্রতিরোধের সময় সংঘটিত কার্যাবলির জন্য আন্দোলনকারীরা আইনি দায়মুক্তি পাবেন। ফলে বিদ্যমান ফৌজদারি মামলাগুলো প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত হয়েছে এবং এসব ঘটনায় নতুন করে কোনো মামলা করা যাবে না। তবে ব্যক্তিগত লোভ বা সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো এই দায়মুক্তির আওতার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

তদন্ত ও মামলা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায়। এছাড়া ডিএমপিতে কর্মরত ১৪ জন এবং সোনাইমুড়ী, তিতাস ও বানিয়াচং থানায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তিতাস থানায় নিহত এসআই রেজাউলের স্ত্রী এবং যাত্রাবাড়ীতে নিহত কনস্টেবল আবদুল মজিদের স্ত্রীসহ অনেক স্বজনই অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও থানাগুলোতে নথিবদ্ধ হওয়া মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।