চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের অভয়ারণ্য গুঁড়িয়ে দিতে গিয়ে এক বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অভিযানে যাওয়া চার র্যাব সদস্যকে অপহরণ করে তিন ঘণ্টা আটকে রেখে বিবস্ত্র করে নৃশংসভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়, যার ফলে র্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক আব্দুল মোতালেব মৃত্যুবরণ করেছেন। দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় প্রশাসনের ওপর হামলার ইতিহাস দীর্ঘ হলেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এভাবে আটকে রেখে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা এটিই প্রথম, যা পুরো চট্টগ্রামে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
র্যাব ও স্থানীয় সূত্রমতে, গত সোমবার সন্ধ্যায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন ও তার সহযোগীদের অবস্থানের খবর পেয়ে সলিমপুরের একটি ভবনের সামনে অভিযানে যায় র্যাবের দল। ওই ভবনটি মূলত আগে আওয়ামী লীগের কার্যালয় থাকলেও ৫ আগস্টের পর উত্তর জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা রোকন উদ্দিন মেম্বার সেটি দখল করে বিএনপি কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ঝোলান। ইয়াছিন বাহিনী রোকনের লোকজনকে তাড়িয়ে ওইদিন কার্যালয়টি পুনরায় উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছিল। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ইয়াছিন বাহিনী মাইকে ঘোষণা দিয়ে র্যাব সদস্যদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। এরপর তাদের অপহরণ করে তিন কিলোমিটার দূরে আলীনগরের একটি নির্মাণাধীন দোকানে নিয়ে দফায় দফায় গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও অতিরিক্ত র্যাব সদস্য গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও আব্দুল মোতালেবকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আহত তিন সদস্যের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে যে, জঙ্গল সলিমপুরে বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক কার্যালয় নেই এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত ইয়াছিন বাহিনী এবং রোকন মেম্বারের অনুসারীদের মধ্যে এলাকার আধিপত্য বিস্তার এবং খাস জমি দখলের লড়াইয়ে বিএনপির নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ১৬ মাসে এই এলাকায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে সন্ত্রাসী আলী আক্কাসের হাত ধরে শুরু হওয়া এই বসতি এখন ইয়াছিন, মশিউর ও গফুর মেম্বারের মতো দাগী অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা। দুর্গম পাহাড় ও ভোটের রাজনীতির কারণে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এখানে দীর্ঘ দিন ধরে পাহাড় কাটা ও ভূমিদস্যুতা চলছে।
ঘটনার পর র্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান জানিয়েছেন যে, জঙ্গল সলিমপুরের এই সন্ত্রাসীদের আখড়া চিরতরে নির্মূল করা হবে। খুব শীঘ্রই সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি বড় আকারের ‘কম্বাইন্ড অপারেশন’ বা যৌথ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হবে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং ৩ হাজার একরের সরকারি খাস জমি ভূমিদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত করা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সলিমপুর ও আলীনগরের সন্ত্রাসীদের দমন করা না গেলে চট্টগ্রামের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে না।
রিপোর্টারের নাম 























