আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সন্ত্রাসীদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রুখতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা ও কারাগার থেকে লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনি নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস লুণ্ঠিত সব অস্ত্র দ্রুততম সময়ে উদ্ধারের জন্য বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন এবং এর ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সারা দেশে মোট ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখের বেশি গোলাবারুদ লুণ্ঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ১ হাজার ৩০টির মতো মারণাস্ত্র এখনো অপরাধীদের হাতে রয়ে গেছে। এই তালিকায় রয়েছে অত্যাধুনিক চাইনিজ রাইফেল, এসএমজি এবং এলএমজি’র মতো ভয়ংকর সব হাতিয়ার। এর পাশাপাশি বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪০ জন বন্দীর মধ্যে প্রায় ৭০০ জন এখনো পলাতক রয়েছে, যাদের মধ্যে ৬০ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং ৯ জন দুর্ধর্ষ জঙ্গি। এসব দুষ্কৃতকারী ও অবৈধ অস্ত্রের সমন্বয়ে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, প্রার্থীদের প্রচারণা শুরুর দিন অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি থেকে ঢাকায় কাউন্টার টেররিজম (সিটিটিসি) ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী দমনে আরও জোরালো অভিযান চালাবে। এরই মধ্যে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ওই এলাকায় অপরাধীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর সমন্বয়ে ‘কম্বাইন্ড অপারেশন’ শুরু হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে এসব অবৈধ অস্ত্র ও দাগী আসামিদের ধরা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের গোয়েন্দা তথ্য থাকায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটগ্রহণের আগেই জনমনে স্বস্তি ফেরাতে এবং সন্ত্রাসীদের সমূলে নির্মূল করতে ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে সরকার ইতোমধ্যেই পুরস্কার ঘোষণা করেছে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























