ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সন্ত্রাস নির্মূলে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন ও তার সহযোগীদের ধরতে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাব। এই ঘটনায় মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নামে র‍্যাবের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং আরও তিন সদস্য গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং জড়িতদের ধরতে যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে গত সোমবার সন্ধ্যায় এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব ৭ এর একটি দল ওই এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইয়াসিনকে গ্রেফতার করতে অভিযানে নামে। অভিযানে অংশ নেওয়া র‍্যাব সদস্যরা যখন সলিমপুরের ১ নম্বর সাংগঠনিক ওয়ার্ডে পৌঁছান তখন সেখানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একটি তথাকথিত কার্যালয় উদ্বোধনের অনুষ্ঠান চলছিল। র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষ ও দুষ্কৃতকারীদের জড়ো করে। মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে র‍্যাবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত ভিডিওতে দেখা গেছে যে সন্ত্রাসীরা র‍্যাবের দুটি মাইক্রোবাস লক্ষ্য করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলার সময় এক ব্যক্তিকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকার প্রধান ফটক আটকে দেওয়ার নির্দেশ দিতে শোনা যায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা র‍্যাবের চার সদস্যকে অপহরণ করে পাশের একটি দোকানে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এই ভয়াবহ হামলায় নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া পায়ে গুলিবিদ্ধ হন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তীতে পুলিশ ও অতিরিক্ত র‍্যাব সদস্য গিয়ে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া ১৯৯৫ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগদান করেছিলেন এবং গত বছরের এপ্রিল থেকে প্রেষণে র‍্যাব ৭ এ কর্মরত ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও বাহিনীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে সলিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে অভিযুক্ত ইয়াসিন মূলত একজন স্বঘোষিত রাজা এবং তার বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দাবি ইয়াসিন অতীতে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থাকলেও ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যে কার্যালয়টি উদ্বোধনের সময় এই ঘটনা ঘটেছে সেটিও মূলত দখল করা একটি পুরনো কার্যালয়।

র‍্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান নিহতের জানাজা শেষে গণমাধ্যমকে বলেন যে জঙ্গল সলিমপুর এখন সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। খুব দ্রুতই আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হবে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানিয়েছেন যে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে বড় ধরনের যৌথ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। জঙ্গল সলিমপুরের ৩ হাজার ১০০ একর খাস জমি উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসন এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের মহোৎসব

সন্ত্রাস নির্মূলে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ

আপডেট সময় : ১২:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন ও তার সহযোগীদের ধরতে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাব। এই ঘটনায় মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নামে র‍্যাবের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং আরও তিন সদস্য গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং জড়িতদের ধরতে যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে গত সোমবার সন্ধ্যায় এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব ৭ এর একটি দল ওই এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইয়াসিনকে গ্রেফতার করতে অভিযানে নামে। অভিযানে অংশ নেওয়া র‍্যাব সদস্যরা যখন সলিমপুরের ১ নম্বর সাংগঠনিক ওয়ার্ডে পৌঁছান তখন সেখানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একটি তথাকথিত কার্যালয় উদ্বোধনের অনুষ্ঠান চলছিল। র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষ ও দুষ্কৃতকারীদের জড়ো করে। মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে র‍্যাবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত ভিডিওতে দেখা গেছে যে সন্ত্রাসীরা র‍্যাবের দুটি মাইক্রোবাস লক্ষ্য করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলার সময় এক ব্যক্তিকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকার প্রধান ফটক আটকে দেওয়ার নির্দেশ দিতে শোনা যায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা র‍্যাবের চার সদস্যকে অপহরণ করে পাশের একটি দোকানে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এই ভয়াবহ হামলায় নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া পায়ে গুলিবিদ্ধ হন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তীতে পুলিশ ও অতিরিক্ত র‍্যাব সদস্য গিয়ে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া ১৯৯৫ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগদান করেছিলেন এবং গত বছরের এপ্রিল থেকে প্রেষণে র‍্যাব ৭ এ কর্মরত ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও বাহিনীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে সলিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে অভিযুক্ত ইয়াসিন মূলত একজন স্বঘোষিত রাজা এবং তার বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দাবি ইয়াসিন অতীতে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থাকলেও ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যে কার্যালয়টি উদ্বোধনের সময় এই ঘটনা ঘটেছে সেটিও মূলত দখল করা একটি পুরনো কার্যালয়।

র‍্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান নিহতের জানাজা শেষে গণমাধ্যমকে বলেন যে জঙ্গল সলিমপুর এখন সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। খুব দ্রুতই আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হবে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানিয়েছেন যে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে বড় ধরনের যৌথ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। জঙ্গল সলিমপুরের ৩ হাজার ১০০ একর খাস জমি উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসন এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।