ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বাজিমাত: ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফার রেকর্ড

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও দেশের অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আয়ের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। সদ্য বিদায়ী ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে বন্দরটি ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বন্দরের এই অভাবনীয় সাফল্যের পাশাপাশি সরকারি কোষাগারেও বড় অংকের অর্থ জমা পড়েছে। ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ, যা গত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বন্দরের মোট রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বন্দরের এই আর্থিক খতিয়ান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে যেখানে ব্যয় বেড়েছে গড়ে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ হারে, সেখানে মুনাফা বেড়েছে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ হারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেবার মান অক্ষুণ্ণ রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি এবং আধুনিকায়নের সুফল মিলেছে এই পরিসংখ্যানে। বিশেষ করে ই-বিলিং, অনলাইন পেমেন্ট ও ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মতো ডিজিটাল সেবা চালু হওয়ায় লেনদেনের জটিলতা কমেছে এবং আয়ের পথ সুগম হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এই সাফল্য সম্পর্কে বলেন, ই-মুট পাস এবং এজেন্ট ডেস্কের মতো ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়িত হওয়ায় বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। তবে বন্দর বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সেবার মান আরও বাড়াতে হলে বিদ্যমান ট্যারিফ বা মাশুল কাঠামো যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক হয়রানি ও দুর্নীতির অদৃশ্য ব্যয় কমানো গেলে আয়ের এই ধারা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ ৩৪ লাখ টিইউএস কন্টেইনার এবং ১৩ কোটি ৮১ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘুরে দাঁড়ানোরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বাজিমাত: ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফার রেকর্ড

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও দেশের অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আয়ের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। সদ্য বিদায়ী ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে বন্দরটি ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বন্দরের এই অভাবনীয় সাফল্যের পাশাপাশি সরকারি কোষাগারেও বড় অংকের অর্থ জমা পড়েছে। ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ, যা গত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বন্দরের মোট রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বন্দরের এই আর্থিক খতিয়ান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে যেখানে ব্যয় বেড়েছে গড়ে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ হারে, সেখানে মুনাফা বেড়েছে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ হারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেবার মান অক্ষুণ্ণ রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি এবং আধুনিকায়নের সুফল মিলেছে এই পরিসংখ্যানে। বিশেষ করে ই-বিলিং, অনলাইন পেমেন্ট ও ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মতো ডিজিটাল সেবা চালু হওয়ায় লেনদেনের জটিলতা কমেছে এবং আয়ের পথ সুগম হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এই সাফল্য সম্পর্কে বলেন, ই-মুট পাস এবং এজেন্ট ডেস্কের মতো ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়িত হওয়ায় বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। তবে বন্দর বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সেবার মান আরও বাড়াতে হলে বিদ্যমান ট্যারিফ বা মাশুল কাঠামো যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক হয়রানি ও দুর্নীতির অদৃশ্য ব্যয় কমানো গেলে আয়ের এই ধারা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ ৩৪ লাখ টিইউএস কন্টেইনার এবং ১৩ কোটি ৮১ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘুরে দাঁড়ানোরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।