ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গ্যাস সংযোগে মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাচারিতা ও বৈষম্য: বন্ধের মুখে চালু কারখানা, অনুমোদন পেল খালি মাঠ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

দেশের জ্বালানি খাতে শিল্প সংযোগ প্রদানে চরম বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বিরুদ্ধে। বিতরণ কোম্পানি ও পেট্রোবাংলার ইতিবাচক সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও ভোলার ‘জারিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড’-এর গ্যাস সংযোগের আবেদন কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়। অথচ একই এলাকায় অবস্থিত প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের একটি কারখানার জন্য দ্রুত সংযোগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে বর্তমানে কেবল মাটি ভরাটের কাজ চলছে। মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব পরিপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, কেবল উৎপাদনে প্রস্তুত কারখানাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জারিয়ান ফুড বর্তমানে বিকল্প জ্বালানিতে উৎপাদন সচল রাখলেও তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে মন্ত্রণালয় নিজেদের নীতিমালারই লঙ্ঘন করেছে।

বিতরণ কোম্পানি ও পেট্রোবাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, জারিয়ান ফুডের গ্যাসের চাহিদা অত্যন্ত নগণ্য এবং সেখানে গ্যাস সরবরাহের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে। সংযোগটি দেওয়া হলে সরকারের রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পেত। কিন্তু গতানুগতিক এক লাইনের পত্রে আবেদনটি নাকচ করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কারখানার মালিকপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রণালয় গঠিত বিশেষ কমিটিকে ‘সন্তুষ্ট’ করতে না পারায় অনেক বৈধ আবেদন বাতিল হচ্ছে, অন্যদিকে প্রভাবশালী মহলের তদবিরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি এই সংযোগের বিনিময়ে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যের জনশ্রুতিও এখন ওপেন সিক্রেট। চট্টগ্রামের কনফিডেন্স সল্ট এবং ঢাকা সল্ট অ্যান্ড কেমিক্যালসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ প্রক্রিয়া ঘিরেও অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির নানা তথ্য সামনে এসেছে।

বর্তমানে শিল্প ও ক্যাপটিভ গ্রাহকদের নতুন সংযোগ বা লোড বৃদ্ধির জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোর পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এতে প্রশাসনিক আমলাতন্ত্র ও ‘লালফিতা’র দৌরাত্ম্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে। যমুনা গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বোর্ডের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে মন্ত্রণালয়ের এই নিয়ন্ত্রণ মূলত দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করেছে। অতিরিক্ত সচিব রফিকুল আলমের নেতৃত্বাধীন কমিটির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তবে বিনিয়োগকারীদের মতে, মন্ত্রণালয়ের এমন স্বেচ্ছাচারিতা দেশের শিল্পায়ন ও নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা তৈরি করছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের তাণ্ডব: গুলিতে প্রাণ হারালেন কুতুবদিয়ার এক জেলে

গ্যাস সংযোগে মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাচারিতা ও বৈষম্য: বন্ধের মুখে চালু কারখানা, অনুমোদন পেল খালি মাঠ

আপডেট সময় : ০১:৪১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের জ্বালানি খাতে শিল্প সংযোগ প্রদানে চরম বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বিরুদ্ধে। বিতরণ কোম্পানি ও পেট্রোবাংলার ইতিবাচক সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও ভোলার ‘জারিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড’-এর গ্যাস সংযোগের আবেদন কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়। অথচ একই এলাকায় অবস্থিত প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের একটি কারখানার জন্য দ্রুত সংযোগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে বর্তমানে কেবল মাটি ভরাটের কাজ চলছে। মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব পরিপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, কেবল উৎপাদনে প্রস্তুত কারখানাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জারিয়ান ফুড বর্তমানে বিকল্প জ্বালানিতে উৎপাদন সচল রাখলেও তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে মন্ত্রণালয় নিজেদের নীতিমালারই লঙ্ঘন করেছে।

বিতরণ কোম্পানি ও পেট্রোবাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, জারিয়ান ফুডের গ্যাসের চাহিদা অত্যন্ত নগণ্য এবং সেখানে গ্যাস সরবরাহের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে। সংযোগটি দেওয়া হলে সরকারের রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পেত। কিন্তু গতানুগতিক এক লাইনের পত্রে আবেদনটি নাকচ করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কারখানার মালিকপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রণালয় গঠিত বিশেষ কমিটিকে ‘সন্তুষ্ট’ করতে না পারায় অনেক বৈধ আবেদন বাতিল হচ্ছে, অন্যদিকে প্রভাবশালী মহলের তদবিরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি এই সংযোগের বিনিময়ে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যের জনশ্রুতিও এখন ওপেন সিক্রেট। চট্টগ্রামের কনফিডেন্স সল্ট এবং ঢাকা সল্ট অ্যান্ড কেমিক্যালসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ প্রক্রিয়া ঘিরেও অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির নানা তথ্য সামনে এসেছে।

বর্তমানে শিল্প ও ক্যাপটিভ গ্রাহকদের নতুন সংযোগ বা লোড বৃদ্ধির জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোর পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এতে প্রশাসনিক আমলাতন্ত্র ও ‘লালফিতা’র দৌরাত্ম্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে। যমুনা গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বোর্ডের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে মন্ত্রণালয়ের এই নিয়ন্ত্রণ মূলত দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করেছে। অতিরিক্ত সচিব রফিকুল আলমের নেতৃত্বাধীন কমিটির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তবে বিনিয়োগকারীদের মতে, মন্ত্রণালয়ের এমন স্বেচ্ছাচারিতা দেশের শিল্পায়ন ও নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা তৈরি করছে।