ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ ১৬ বছরের বঞ্চনার অবসান: বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক হলেন মনির হোসেন

দীর্ঘ দেড় দশক ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে পদোন্নতি বঞ্চিত থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মনির হোসেন। সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সহকারী আঞ্চলিক পরিচালক থেকে পদোন্নতি দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কারণে বিগত ১৬ বছর তাকে চরম পেশাগত বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তাকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা ছাড়াও সরকারি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে পরিকল্পিতভাবে দূরে রাখা হয়েছিল। এমনকি বারবার ঢাকার বাইরে বদলিসহ নানাভাবে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও অঞ্চলে কর্মরত সহকর্মীরা মনির হোসেনের এই পদোন্নতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের মতে, তিনি একজন অত্যন্ত সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা। কেবল রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে একজন মেধাবী কর্মকর্তাকে এতদিন প্রাপ্য সম্মান থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জনপ্রশাসন ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে যোগ্য কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, মনির হোসেনের পদোন্নতি তারই প্রতিফলন বলে তারা মনে করছেন।

পদোন্নতি প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় মনির হোসেন মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, “আমি কখনোই কোনো কিছুর প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করিনি, বরং নিজের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিলাম। আমি বিশ্বাস করতাম, একদিন না একদিন সততার মূল্যায়ন হবেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে যে পরিবর্তন এসেছে, তার ফলেই আজ আমি আমার প্রাপ্য সম্মান ফিরে পেয়েছি।”

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “আজকের এই অর্জনের মুহূর্তে আমি জুলাই বিপ্লবে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করি। আল্লাহ আমাকে যে নতুন মর্যাদা দিয়েছেন, আমি যেন নিষ্ঠার সাথে তার মর্যাদা রক্ষা করতে পারি।”

উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মনির হোসেনের পরিবারকেও বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। আন্দোলনে তার আপন ভাতিজা শহীদ হয়েছেন এবং পরিবারের আরেক সদস্য গুরুতর আহত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। দীর্ঘ বঞ্চনা আর ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে নতুন দায়িত্বে মনির হোসেনের এই পদায়ন বেতারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নোনাজলে ফিকে হওয়া স্বপ্ন ও একটি প্রজন্মের নিঃশব্দ সলিলসমাধি

দীর্ঘ ১৬ বছরের বঞ্চনার অবসান: বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক হলেন মনির হোসেন

আপডেট সময় : ০৫:২০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ দেড় দশক ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে পদোন্নতি বঞ্চিত থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মনির হোসেন। সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সহকারী আঞ্চলিক পরিচালক থেকে পদোন্নতি দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কারণে বিগত ১৬ বছর তাকে চরম পেশাগত বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তাকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা ছাড়াও সরকারি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে পরিকল্পিতভাবে দূরে রাখা হয়েছিল। এমনকি বারবার ঢাকার বাইরে বদলিসহ নানাভাবে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও অঞ্চলে কর্মরত সহকর্মীরা মনির হোসেনের এই পদোন্নতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের মতে, তিনি একজন অত্যন্ত সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা। কেবল রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে একজন মেধাবী কর্মকর্তাকে এতদিন প্রাপ্য সম্মান থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জনপ্রশাসন ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে যোগ্য কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, মনির হোসেনের পদোন্নতি তারই প্রতিফলন বলে তারা মনে করছেন।

পদোন্নতি প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় মনির হোসেন মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, “আমি কখনোই কোনো কিছুর প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করিনি, বরং নিজের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিলাম। আমি বিশ্বাস করতাম, একদিন না একদিন সততার মূল্যায়ন হবেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে যে পরিবর্তন এসেছে, তার ফলেই আজ আমি আমার প্রাপ্য সম্মান ফিরে পেয়েছি।”

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “আজকের এই অর্জনের মুহূর্তে আমি জুলাই বিপ্লবে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করি। আল্লাহ আমাকে যে নতুন মর্যাদা দিয়েছেন, আমি যেন নিষ্ঠার সাথে তার মর্যাদা রক্ষা করতে পারি।”

উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মনির হোসেনের পরিবারকেও বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। আন্দোলনে তার আপন ভাতিজা শহীদ হয়েছেন এবং পরিবারের আরেক সদস্য গুরুতর আহত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। দীর্ঘ বঞ্চনা আর ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে নতুন দায়িত্বে মনির হোসেনের এই পদায়ন বেতারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।