দুর্নীতির অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও লোকসংগীত শিল্পী মমতাজ বেগমের স্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জব্দকৃত সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে রাজধানী ও মানিকগঞ্জের চারটি বিলাসবহুল বাড়ি, পূর্বাচলের একটি প্লট এবং বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। তদন্ত চলাকালীন এসব সম্পত্তি যাতে হস্তান্তর বা রূপান্তর করা না যায়, সেই লক্ষ্যে দুদক সম্পদ জব্দের আবেদন জানায়।
আদালতের আদেশে জব্দ হওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসের একটি পাঁচতলা ভবন, মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দুটি দোতলা বাড়ি, মানিকগঞ্জ সদর এলাকায় একটি চারতলা ভবন এবং পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৯ কাঠার একটি প্লট। এ ছাড়াও সিংগাইর ও মানিকগঞ্জ সদরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত ৪২৪ শতাংশেরও বেশি জমি এই আদেশের আওতায় এসেছে।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত একটি দোতলা বাড়ি ব্যতীত জব্দকৃত এসব সম্পদের দালিলিক মূল্য ১১ কোটি ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৮৪ টাকা। তবে বর্তমান বাজারমূল্য এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুদকের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম এই সম্পত্তি জব্দের আবেদনটি করেছিলেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মমতাজ বেগম এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব সম্পদ জব্দ করা জরুরি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ মে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বর্তমানে তিনি হত্যাচেষ্টা ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আদালতের এই আদেশের ফলে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























