বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক গভীর ও বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি। সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট-২০২৬’ অনুযায়ী, চলতি বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ‘অপরাধ ও অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড’। দ্বিতীয় প্রধান ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে ‘ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ বা সংঘাত’। এর আগে সাধারণত মূল্যস্ফীতি বা জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়গুলো তালিকার শীর্ষে থাকলেও, এবার প্রথমবারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েন দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য মোট পাঁচটি প্রধান ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। প্রথম দুটি ছাড়া বাকি তিনটি ঝুঁকি হলো—টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি এবং সরকারি ও বেসরকারি ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বড় দেশগুলোর মধ্যকার বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আমাদের আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করছে। তাঁর মতে, বৈশ্বিক এই ভূ-অর্থনৈতিক বিভাজন উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার আরও কঠিন করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অভ্যন্তরীণ সংস্কারের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল গ্রহণ না করলে এই ঝুঁকিগুলো অর্থনীতিকে আরও পঙ্গু করে দিতে পারে। অপরাধ ও অবৈধ অর্থনীতি সরাসরি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করছে, অন্যদিকে ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হওয়ায় উন্নয়নমূলক কাজের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ দীর্ঘ মেয়াদে ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদে’ আটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সুশাসন নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে কার্যকর সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
রিপোর্টারের নাম 

























