ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ছয় লক্ষ কোটি টাকা আদায়ের বিশাল চ্যালেঞ্জ এনবিআরের কাঁধে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছয় লক্ষ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ছয় লক্ষ চার হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে। এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২১ শতাংশের বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি। তবে, অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এনবিআর রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির সম্মুখীন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি কম হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, অর্থবছরের শেষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না। শুধু চলতি অর্থবছরেই নয়, বিগত এক দশকেও রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এই আদায়কারী সংস্থা। এর মাঝে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের আরও বড় একটি লক্ষ্য এনবিআরের কাঁধে চাপানো হয়েছে।

এনবিআর সূত্রমতে, রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আয়কর এবং ভ্রমণ কর খাত থেকে দুই লক্ষ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দুটি খাত থেকে মোট রাজস্বের ৭৪ শতাংশ আদায় হবে। বাকি দুই লক্ষ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে শুল্ক কর থেকে আসবে।

তবে, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ এনবিআরের এই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রায় বড় ধরনের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরে এত বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমাদের কর পদ্ধতির বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও খুব বেশি নয়, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি চার শতাংশ হতে পারে এবং আগামী অর্থবছরে সাড়ে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ড. রিয়াজ আরও বলেন, এমন দুর্বল প্রবৃদ্ধির মধ্যে রাজস্ব আদায়ে এত বড় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। এছাড়া, আগামী বাজেটে প্রচুর কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এমনিতেই আমাদের করের আওতা ছোট। এর মধ্যে ব্যাপকহারে কর ছাড়ের কারণে রাজস্ব আদায় আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেন, অর্থনীতিতে শ্লথগতি, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনজনিত অস্থিরতা এর অন্যতম কারণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস: চার মাসে আয় কমেছে ১১ শতাংশ

ছয় লক্ষ কোটি টাকা আদায়ের বিশাল চ্যালেঞ্জ এনবিআরের কাঁধে

আপডেট সময় : ১১:৪৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছয় লক্ষ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ছয় লক্ষ চার হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে। এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২১ শতাংশের বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি। তবে, অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এনবিআর রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির সম্মুখীন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি কম হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, অর্থবছরের শেষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না। শুধু চলতি অর্থবছরেই নয়, বিগত এক দশকেও রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এই আদায়কারী সংস্থা। এর মাঝে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের আরও বড় একটি লক্ষ্য এনবিআরের কাঁধে চাপানো হয়েছে।

এনবিআর সূত্রমতে, রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আয়কর এবং ভ্রমণ কর খাত থেকে দুই লক্ষ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দুটি খাত থেকে মোট রাজস্বের ৭৪ শতাংশ আদায় হবে। বাকি দুই লক্ষ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে শুল্ক কর থেকে আসবে।

তবে, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ এনবিআরের এই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রায় বড় ধরনের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরে এত বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমাদের কর পদ্ধতির বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও খুব বেশি নয়, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি চার শতাংশ হতে পারে এবং আগামী অর্থবছরে সাড়ে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ড. রিয়াজ আরও বলেন, এমন দুর্বল প্রবৃদ্ধির মধ্যে রাজস্ব আদায়ে এত বড় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। এছাড়া, আগামী বাজেটে প্রচুর কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এমনিতেই আমাদের করের আওতা ছোট। এর মধ্যে ব্যাপকহারে কর ছাড়ের কারণে রাজস্ব আদায় আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেন, অর্থনীতিতে শ্লথগতি, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনজনিত অস্থিরতা এর অন্যতম কারণ।