ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে এক বিশেষ চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে। দীর্ঘ দেড় দশকের নিবিড় বন্ধুত্বের পর সাম্প্রতিক সময়ে পুশ-ইন ইস্যু, সীমান্ত সংঘাত এবং পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের ফলে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট প্রকট হয়েছে। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি কমেছে প্রায় ৬.৬৮ শতাংশ। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং পাটজাত পণ্যের মতো শীর্ষস্থানীয় খাতগুলো বড় ধরনের রপ্তানি ধসের মুখে পড়েছে।
বাণিজ্যিক এই সংকটের নেপথ্যে রয়েছে ভারতের আরোপিত নানা বিধিনিষেধ। গত মে ও জুন মাসে ভারত বাংলাদেশের পোশাক ও খাদ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে স্থলবন্দর ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করে, যার ফলে রপ্তানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ও আইএমএফ-এর শর্তের দোহাই দিয়ে সরকার যদি রপ্তানি সহায়তা কমিয়ে দেয়, তবে এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্থানীয় সুতা শিল্পও অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। ভারতীয় সুতায় দেওয়া ভর্তুকির কারণে দেশীয় মিলগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা এই ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছ থেকে সমানুপাতিক প্রণোদনা দাবি করেছেন।
রপ্তানি কমলেও আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভারত-নির্ভরতা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি ও সুতার ক্ষেত্রে এই নির্ভরতা এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক বিবেচনার উর্ধ্বে রাখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, স্থলবন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়া ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের জন্য বেশি দুশ্চিন্তার কারণ। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, আসন্ন নির্বাচিত সরকার পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করবে, যা দেশের শিল্প খাতকে রক্ষা করার পাশাপাশি বাণিজ্যিক সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
রিপোর্টারের নাম 

























