২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সারা দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশি স্থাপনা থেকে লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, সেই সময় ৫ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় সাড়ে ৬ লাখ গোলাবারুদ লুট হয়েছিল। এর মধ্যে এসএসএফ-এর ৩২টি অস্ত্রও ছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযানে অধিকাংশ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ১ হাজার ৩৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি গুলি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। বেহাত হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, পিস্তল ও শটগানের মতো মারাত্মক মারণাস্ত্র যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড।
লুণ্ঠিত এই অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে সরকার ইতোমধ্যে কয়েক দফায় আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এলএমজি উদ্ধারের জন্য ৫ লাখ টাকা, এসএমজির জন্য দেড় লাখ, চায়না রাইফেলের জন্য ১ লাখ এবং পিস্তল বা শটগানের জন্য ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রতিটি গুলির জন্যও ৫০০ টাকা পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তবে বারবার পুরস্কারের ঘোষণা এবং ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ফেজ-২ পরিচালনা করা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া মিলছে না। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এসব অস্ত্র এখন প্রশিক্ষিত অপরাধী চক্রের হাতে চলে গেছে, যা উদ্ধার করা কেবল সোর্সের তথ্যের ওপর নির্ভর করে বেশ সময়সাপেক্ষ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। লুণ্ঠিত এসব অস্ত্র নির্বাচনের আগে সংঘাত বা নাশকতায় ব্যবহার হতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। বিশেষ করে গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি এবং জানুয়ারির শুরুতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা জনমনে ভীতি বাড়িয়ে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ বড় গণমাধ্যমগুলোতে এই পুরস্কারের খবরের ব্যাপক প্রচার না করে অজ্ঞাত কারণে স্বল্প পরিচিত মাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এছাড়া অতীতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র নতুন করে উদ্ধার দেখিয়ে পদক হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও তদন্তের দাবি রাখছে। সার্বিকভাবে, নির্বাচনের আগে এই বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা না গেলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 

























