নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বা ‘টার্গেট কিলিং’ রুখতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় ইতোমধ্যে দেশের অর্ধশতাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সশস্ত্র দেহরক্ষী বা গানম্যান প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত একটি বিশেষ তালিকার মাধ্যমেই এই বাড়তি সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।
গানম্যান প্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া বিএনপি নেতা মাসুদ অরুণ, আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নুর, জুনায়েদ সাকি, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং অলি আহমদসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা ও প্রার্থীর জন্য গানম্যান মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যারা অধিক ঝুঁকিতে রয়েছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের সশস্ত্র দেহরক্ষী দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাফেরায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
তবে কতিপয় ব্যক্তিকে গানম্যান দিয়ে সার্বিক নাশকতা বা টার্গেট কিলিং বন্ধ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। সাবেক আইজিপি নূরুল হুদার মতে, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে টার্গেট কিলিংয়ের ঝুঁকি আরও বাড়বে। তিনি মনে করেন, কেবল গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন; এর জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা আরও নিবিড় করা প্রয়োজন। বিশেষ করে দেশের বাইরে থাকা পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। একইভাবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে কেবল ব্যক্তিবিশেষের সুরক্ষায় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর সরকার এই নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। গত ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে অনেক রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনের যোদ্ধারা দেশে-বিদেশে পলাতক অপশক্তির কাছ থেকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রিপোর্টারের নাম 

























