ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের বৈষম্য দূর করার দাবি: এন্ট্রি পদ নবম গ্রেডে উন্নীত করে বিসিএস ক্যাডার মর্যাদা চাই

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতারা দাবি করেছেন যে, তাঁরা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তাঁদের মতে, প্রবেশপর্যায়ে (এন্ট্রি) দশম গ্রেড দেওয়ার মধ্য দিয়েই এই বৈষম্যের শুরু। এর পর পদোন্নতিতেও তাঁরা একই ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

এই বৈষম্য দূর করতে শিক্ষক নেতারা দাবি করেছেন যে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এন্ট্রি পদ নবম গ্রেডে উন্নীত করে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদমর্যাদা দিতে হবে। পাশাপাশি, চার থেকে ছয় স্তরের একটি সুষ্ঠু অ্যাকাডেমিক পদসোপান তৈরি করতে হবে। মাধ্যমিক শিক্ষায় গতি ফেরাতে অবিলম্বে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।আজ শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এন্ট্রি পদ নবম গ্রেডভিত্তিক পদসোপান বাস্তবায়ন পরিষদের’ উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাধ্যমিক শিক্ষার সংকটের স্বরূপ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনার ও শিক্ষক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের সহকারী শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান। তিনি বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদকে ১৯৭৫ সালে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদমর্যাদা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও তা আজও দশম গ্রেডে রয়ে গেছে। অথচ সহকারী শিক্ষকের বদলিযোগ্য পদ পিটিআই ইন্সট্রাক্টর পদকে ১৯৯৬ সালে নবম গ্রেডভুক্ত করা হয়েছিল।

আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান আরও বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) দুটি শাখার প্রারম্ভিক পদের নিয়োগ ও যোগ্যতা একই (স্নাতকোত্তর) বা বেশি হলেও বেতন গ্রেড ও মর্যাদায় তারতম্য রয়েছে, যা একটি স্পষ্ট বৈষম্য।সেমিনারে মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন শিক্ষক রাশিদুজ্জামান। তিনি বলেন, সিনিয়র শিক্ষক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক/সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসারের মতো পদগুলো নবম গ্রেডের বিসিএস ক্যাডারভুক্ত পদ। তাই নবম গ্রেডের সিনিয়র শিক্ষক পদ থেকে এই পদগুলোতে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি পদোন্নতির জটিলতার কারণ উল্লেখ করে বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অ্যাকাডেমিক পদ (সিনিয়র সহকারী শিক্ষক) থেকে প্রশাসনিক পদে (প্রধান শিক্ষক) পদোন্নতি দেওয়া হয়, যা জটিলতা তৈরি করছে। অথচ কলেজে অ্যাকাডেমিক পদ থেকে প্রশাসনিক পদে কেবল পদায়ন করা হয়, পদোন্নতি নয়।নিয়োগের যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও এন্ট্রি পদকে নবম গ্রেড ধরে পদসোপান তৈরি না করা নিয়ে বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের সহকারী শিক্ষক ও পরিষদের সদস্যসচিব মো. আব্দুল মূবীন সহ আরও অনেকে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে অস্বস্তি বাড়ার আশঙ্কা, দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস

সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের বৈষম্য দূর করার দাবি: এন্ট্রি পদ নবম গ্রেডে উন্নীত করে বিসিএস ক্যাডার মর্যাদা চাই

আপডেট সময় : ০৫:১৬:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতারা দাবি করেছেন যে, তাঁরা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তাঁদের মতে, প্রবেশপর্যায়ে (এন্ট্রি) দশম গ্রেড দেওয়ার মধ্য দিয়েই এই বৈষম্যের শুরু। এর পর পদোন্নতিতেও তাঁরা একই ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

এই বৈষম্য দূর করতে শিক্ষক নেতারা দাবি করেছেন যে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এন্ট্রি পদ নবম গ্রেডে উন্নীত করে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদমর্যাদা দিতে হবে। পাশাপাশি, চার থেকে ছয় স্তরের একটি সুষ্ঠু অ্যাকাডেমিক পদসোপান তৈরি করতে হবে। মাধ্যমিক শিক্ষায় গতি ফেরাতে অবিলম্বে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।আজ শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এন্ট্রি পদ নবম গ্রেডভিত্তিক পদসোপান বাস্তবায়ন পরিষদের’ উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাধ্যমিক শিক্ষার সংকটের স্বরূপ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনার ও শিক্ষক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের সহকারী শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান। তিনি বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদকে ১৯৭৫ সালে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদমর্যাদা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও তা আজও দশম গ্রেডে রয়ে গেছে। অথচ সহকারী শিক্ষকের বদলিযোগ্য পদ পিটিআই ইন্সট্রাক্টর পদকে ১৯৯৬ সালে নবম গ্রেডভুক্ত করা হয়েছিল।

আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান আরও বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) দুটি শাখার প্রারম্ভিক পদের নিয়োগ ও যোগ্যতা একই (স্নাতকোত্তর) বা বেশি হলেও বেতন গ্রেড ও মর্যাদায় তারতম্য রয়েছে, যা একটি স্পষ্ট বৈষম্য।সেমিনারে মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন শিক্ষক রাশিদুজ্জামান। তিনি বলেন, সিনিয়র শিক্ষক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক/সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসারের মতো পদগুলো নবম গ্রেডের বিসিএস ক্যাডারভুক্ত পদ। তাই নবম গ্রেডের সিনিয়র শিক্ষক পদ থেকে এই পদগুলোতে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি পদোন্নতির জটিলতার কারণ উল্লেখ করে বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অ্যাকাডেমিক পদ (সিনিয়র সহকারী শিক্ষক) থেকে প্রশাসনিক পদে (প্রধান শিক্ষক) পদোন্নতি দেওয়া হয়, যা জটিলতা তৈরি করছে। অথচ কলেজে অ্যাকাডেমিক পদ থেকে প্রশাসনিক পদে কেবল পদায়ন করা হয়, পদোন্নতি নয়।নিয়োগের যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও এন্ট্রি পদকে নবম গ্রেড ধরে পদসোপান তৈরি না করা নিয়ে বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের সহকারী শিক্ষক ও পরিষদের সদস্যসচিব মো. আব্দুল মূবীন সহ আরও অনেকে।