ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সাথে ৪০৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশের ‘স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাত উন্নয়ন কর্মসূচি’কে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সাথে ৪০ কোটি ৪০ লাখ (৪০৪ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং জনসংখ্যা বিষয়ক কর্মসূচির প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) আওতাধীন বিশ্বব্যাংক-৫ শাখার উপ-সচিব আবদুল কাদেরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তির শর্তানুযায়ী, বিশ্বব্যাংক ২৮৪.৭০ মিলিয়ন এসডিআর (যা প্রায় ৩৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য) ঋণ হিসেবে প্রদান করবে। এছাড়াও, ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি’ থেকে আরও ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে। এই অর্থ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি পৃথক প্রকল্পের অর্থায়নে ব্যয় করা হবে। প্রকল্প দুটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।

প্রথম প্রকল্পটি, যার নাম ‘হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং প্রজেক্ট’, তা বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশব্যাপী, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার মান, সহজলভ্যতা এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা। দ্বিতীয় প্রকল্প, ‘জলবায়ু-সহনশীল প্রজনন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সেবা সংক্রান্ত প্রকল্প’, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে। এই প্রকল্পটি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বিশ্বব্যাংকের এই ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৩০ বছর, যার মধ্যে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত। ঋণের ছাড়কৃত অর্থের ওপর বার্ষিক ১.২৫% সুদ প্রযোজ্য হবে এবং ০.৭৫% হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। এছাড়াও, অবমুক্ত না হওয়া অনুত্তোলিত তহবিলের ওপর ০.৫০% কমিটমেন্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরসহ বর্ধিত সময়ের জন্য এই কমিটমেন্ট ফি মওকুফ করেছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে পুলিশের বড় অভিযান: ৪২ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সাথে ৪০৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর

আপডেট সময় : ১০:০৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের ‘স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাত উন্নয়ন কর্মসূচি’কে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সাথে ৪০ কোটি ৪০ লাখ (৪০৪ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং জনসংখ্যা বিষয়ক কর্মসূচির প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) আওতাধীন বিশ্বব্যাংক-৫ শাখার উপ-সচিব আবদুল কাদেরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তির শর্তানুযায়ী, বিশ্বব্যাংক ২৮৪.৭০ মিলিয়ন এসডিআর (যা প্রায় ৩৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য) ঋণ হিসেবে প্রদান করবে। এছাড়াও, ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি’ থেকে আরও ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে। এই অর্থ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি পৃথক প্রকল্পের অর্থায়নে ব্যয় করা হবে। প্রকল্প দুটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।

প্রথম প্রকল্পটি, যার নাম ‘হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং প্রজেক্ট’, তা বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশব্যাপী, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার মান, সহজলভ্যতা এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা। দ্বিতীয় প্রকল্প, ‘জলবায়ু-সহনশীল প্রজনন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সেবা সংক্রান্ত প্রকল্প’, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে। এই প্রকল্পটি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বিশ্বব্যাংকের এই ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৩০ বছর, যার মধ্যে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত। ঋণের ছাড়কৃত অর্থের ওপর বার্ষিক ১.২৫% সুদ প্রযোজ্য হবে এবং ০.৭৫% হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। এছাড়াও, অবমুক্ত না হওয়া অনুত্তোলিত তহবিলের ওপর ০.৫০% কমিটমেন্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরসহ বর্ধিত সময়ের জন্য এই কমিটমেন্ট ফি মওকুফ করেছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়।