ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের লক্ষ্যে দ্রুত অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে গতকাল রাজধানীজুড়ে বড় ধরনের অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন ‘সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলন’-এর শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, মহাখালীর আমতলী, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড় পর্যায়ক্রমে অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।
এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এসব পয়েন্টে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং রাজধানীর বিশাল এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী এবং রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকায় নগরবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সাধারণ মানুষ যানবাহন থেকে নেমে মাইলের পর মাইল হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। গতকালের ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবারও রাজধানীর তিনটি প্রধান পয়েন্টে পুনরায় অবরোধের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, গতকাল দুপুর পৌনে ১২টা থেকে তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নিতে শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, ১৫ জানুয়ারির উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের হালনাগাদ খসড়া অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে দ্রুত চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
এদিকে একই দিন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা মহাখালীর আমতলী এবং তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠী সাকিব হত্যার বিচারের দাবিতে ইন্দিরা রোডের মূল সড়ক ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ডাউন র্যাম্প অবরোধ করেন। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, একাধিক স্থানে একই সময়ে শিক্ষার্থীদের এমন কর্মসূচির ফলে পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং এর প্রভাব গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। বনানী ও দারুসসালাম থানা পুলিশ জানায়, পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘ যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ছিল চরমে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার পর থেকেই এই সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে নানা প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের ফলে সেশন জটসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় শিক্ষার্থীদের।
গত বছরের জানুয়ারিতে সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হলেও নতুন কোনো স্বতন্ত্র কাঠামোর অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। গত ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারির আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা সাফ জানিয়েছেন, অধ্যাদেশ জারির সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।
রিপোর্টারের নাম 

























