ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংস্কারের ধারাবাহিকতায় চাঙা হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি: বিশ্বব্যাংক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম কিছুটা গতি হারিয়েছে বা শ্লথ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম স্থিতিশীল রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই অস্থিরতা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতির কারণে চলতি অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের তুলনায় কিছুটা কমিয়ে ধরা হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস, জানুয়ারি ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে যদি একটি নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রমগুলো সফলভাবে অব্যাহত রাখতে পারে, তবে বিদ্যমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এর ফলে দেশের শিল্প খাত পুনরায় চাঙা হবে এবং আগের পূর্বাভাসের চেয়েও দ্রুততর গতিতে সরকারি ব্যয় এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিবেদনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অত্যন্ত ইতিবাচক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়বে, শিল্প খাত চাঙা হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী রূপ নেবে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির হার কমে আসার ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারও বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য যে, গত জুন মাসে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, যা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জানুয়ারিতে দশমিক ৩ শতাংশ কমিয়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ করা হয়েছে। তবে সুখবর হলো, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ৫ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, আগামী অর্থবছরেই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার আবার ৬ শতাংশের ঘরে ফিরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হার প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাস থেকে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার ফলে বর্তমানে এটি স্থিতিশীল রয়েছে এবং কখনো কখনো টাকার মান শক্তিশালী হচ্ছে। যেখানে প্রতিবেশী ভারতের রুপির মান ডলারের বিপরীতে বেশ চাপে রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের মুদ্রার মান স্থিতিশীল থাকা একটি ইতিবাচক দিক। তবে মুদ্রার মানকে আরও নমনীয় করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে, রাজস্ব খাত নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলক কম হলেও সরকার বর্তমানে যে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, তা ভবিষ্যতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধি বা বাণিজ্য বিধিনিষেধের ফলে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো রপ্তানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে ভুটানে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ভারতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংস্কারের ধারাবাহিকতায় চাঙা হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি: বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় : ১২:৫১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম কিছুটা গতি হারিয়েছে বা শ্লথ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম স্থিতিশীল রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই অস্থিরতা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতির কারণে চলতি অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের তুলনায় কিছুটা কমিয়ে ধরা হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস, জানুয়ারি ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে যদি একটি নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রমগুলো সফলভাবে অব্যাহত রাখতে পারে, তবে বিদ্যমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এর ফলে দেশের শিল্প খাত পুনরায় চাঙা হবে এবং আগের পূর্বাভাসের চেয়েও দ্রুততর গতিতে সরকারি ব্যয় এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিবেদনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অত্যন্ত ইতিবাচক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়বে, শিল্প খাত চাঙা হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী রূপ নেবে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির হার কমে আসার ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারও বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য যে, গত জুন মাসে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, যা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জানুয়ারিতে দশমিক ৩ শতাংশ কমিয়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ করা হয়েছে। তবে সুখবর হলো, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ৫ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, আগামী অর্থবছরেই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার আবার ৬ শতাংশের ঘরে ফিরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হার প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাস থেকে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার ফলে বর্তমানে এটি স্থিতিশীল রয়েছে এবং কখনো কখনো টাকার মান শক্তিশালী হচ্ছে। যেখানে প্রতিবেশী ভারতের রুপির মান ডলারের বিপরীতে বেশ চাপে রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের মুদ্রার মান স্থিতিশীল থাকা একটি ইতিবাচক দিক। তবে মুদ্রার মানকে আরও নমনীয় করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে, রাজস্ব খাত নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশে রাজস্ব আহরণ তুলনামূলক কম হলেও সরকার বর্তমানে যে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, তা ভবিষ্যতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধি বা বাণিজ্য বিধিনিষেধের ফলে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো রপ্তানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে ভুটানে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ভারতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে।