আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে ব্যাপক অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ‘বন্যা’ শুরু হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম নির্বাচন, আর এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে গুজব ও ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং এই অপপ্রচার মোকাবিলায় তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার দলের সহায়তা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন যে, ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি একটি ‘সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া’ রাজনৈতিক ব্যবস্থা পেয়েছেন। তাই ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধে নির্বাহী, বিচার বিভাগ ও আইনসভার মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে তিনি ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি এই প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর ওপর একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সংস্কারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করাই তার মূল লক্ষ্য এবং নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনি পদত্যাগ করবেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে ২০২৬ সালের নির্বাচনটি হবে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বাংলাদেশের এই উদ্বেগ আমলে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকার মনে করছে, অপপ্রচার রোধ করা না গেলে নির্বাচনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংবাদমাধ্যমকে এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























