দেশের শেয়ারবাজার দীর্ঘ সময় ধরে গতিহীনতা, সংকোচন ও আস্থাহীনতার মধ্যে রয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে বাজারকে শক্তিশালী করতে দীর্ঘদিন ধরে বহুজাতিক ও শক্তিশালী মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করার দাবি জানানো হলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাজারে এলে গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাও পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বড় কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং অর্থ উপদেষ্টা দফায় দফায় বৈঠক করলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি।
সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে ১০টি লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার (কাফকো), ইউনিলিভার, নেসলে, সিনজেনটা ও নোভার্টিসের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের তালিকাভুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে তেমন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। সূত্রমতে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদের পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড) নেবে। তাদের এমন অনীহা ও কালক্ষেপণের ধরনে মনে হচ্ছে, নিকট ভবিষ্যতে কোনো বড় বহুজাতিক কোম্পানি বাজারে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের মনোভাব থেকে এটি স্পষ্ট যে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা ইতিবাচক হলেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াটিকে জটিল ও সময়সাপেক্ষ হিসেবে দেখছে। ফলে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বড় ও ভালো কোম্পানি আনার উদ্যোগটি অতীতের মতো কেবল আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর কোনো উদ্যোগ বা বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনা বর্তমান সরকারের মেয়াদেও সম্ভব নাও হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























