ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বিশেষ অভিযানেও থামছে না হত্যাকাণ্ড: জনমনে আতঙ্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অংশগ্রহণে দেশব্যাপী ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ চলমান থাকলেও হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। এই অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার অপরাধীকে গ্রেফতার এবং পাঁচ শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত এক বছরে দেশে গড়ে প্রতিদিন ১১ জন মানুষ খুনের শিকার হয়েছেন, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মানবাধিকার সংগঠন ও পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ৩,৭৮৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১০২টি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা এবং মিরপুর, চট্টগ্রাম ও তেজগাঁওয়ে একাধিক রাজনৈতিক নেতার খুনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থাকেই ফুটিয়ে তুলছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত তদারকি বাড়ানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গানম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল ধরপাকড় দিয়ে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাদের মতে, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এই টার্গেট কিলিং বাড়ছে, যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য জরুরি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রেমিট্যান্স সেবায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি: ‘গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ পেল ইসলামী ব্যাংক

বিশেষ অভিযানেও থামছে না হত্যাকাণ্ড: জনমনে আতঙ্ক

আপডেট সময় : ১২:০২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অংশগ্রহণে দেশব্যাপী ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ চলমান থাকলেও হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। এই অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার অপরাধীকে গ্রেফতার এবং পাঁচ শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত এক বছরে দেশে গড়ে প্রতিদিন ১১ জন মানুষ খুনের শিকার হয়েছেন, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মানবাধিকার সংগঠন ও পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ৩,৭৮৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১০২টি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা এবং মিরপুর, চট্টগ্রাম ও তেজগাঁওয়ে একাধিক রাজনৈতিক নেতার খুনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থাকেই ফুটিয়ে তুলছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত তদারকি বাড়ানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গানম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল ধরপাকড় দিয়ে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাদের মতে, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এই টার্গেট কিলিং বাড়ছে, যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য জরুরি।