ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা

আসন্ন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং শাখাগুলোতে এই প্রচার কার্যক্রম চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, গণভোটের পক্ষে জনসচেতনতা বাড়াতে আকর্ষণীয় ব্যানার ও লিফলেট ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বুধবার দেখা যায়, গণভোটের পক্ষে দুটি বড় ব্যানার টাঙানো হয়েছে। একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে, “গণভোট ২০২৬, সংসদ নির্বাচন। দেশের চাবি আপনার হাতে—পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ’।” এটি মূলত ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরছে এবং ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।

অন্য একটি ব্যানারে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: “আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে? যেখানে সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না এবং সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান কার্যকর থাকবে?” এ ধরনের প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট পরিবর্তনের পক্ষে মতামত দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

একই ধরনের বার্তা সংবলিত লিফলেটও বিতরণ করা হচ্ছে। লিফলেটে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, “‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে উপরের সবকিছু পাবেন। ‘না’ ভোট দিলে কিছুই পাবেন না। মনে রাখবেন, পরিবর্তনের চাবি এবার আপনার হাতেই।” এর মধ্য দিয়ে ভোটারদের মনে গণভোটের গুরুত্ব ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের ইতিবাচক ফল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকসহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং শাখাগুলোতেও একই ধরনের ব্যানার ও লিফলেট দেখা গেছে। ব্যাংকগুলোর এই সম্মিলিত প্রচার কার্যক্রম গণভোটকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি ব্যাংক শাখায় গণভোট সংক্রান্ত দুটি করে ব্যানার টাঙানো হবে। এছাড়া, এই প্রচার কার্যক্রমে ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অর্থ ব্যয়ের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশে গত সপ্তাহ থেকেই গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে প্রচারণায় যুক্ত করা হয়েছে, যা দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গণভোটের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা

আপডেট সময় : ১০:৪০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং শাখাগুলোতে এই প্রচার কার্যক্রম চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, গণভোটের পক্ষে জনসচেতনতা বাড়াতে আকর্ষণীয় ব্যানার ও লিফলেট ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বুধবার দেখা যায়, গণভোটের পক্ষে দুটি বড় ব্যানার টাঙানো হয়েছে। একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে, “গণভোট ২০২৬, সংসদ নির্বাচন। দেশের চাবি আপনার হাতে—পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ’।” এটি মূলত ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরছে এবং ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।

অন্য একটি ব্যানারে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: “আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে? যেখানে সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না এবং সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান কার্যকর থাকবে?” এ ধরনের প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট পরিবর্তনের পক্ষে মতামত দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

একই ধরনের বার্তা সংবলিত লিফলেটও বিতরণ করা হচ্ছে। লিফলেটে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, “‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে উপরের সবকিছু পাবেন। ‘না’ ভোট দিলে কিছুই পাবেন না। মনে রাখবেন, পরিবর্তনের চাবি এবার আপনার হাতেই।” এর মধ্য দিয়ে ভোটারদের মনে গণভোটের গুরুত্ব ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের ইতিবাচক ফল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকসহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং শাখাগুলোতেও একই ধরনের ব্যানার ও লিফলেট দেখা গেছে। ব্যাংকগুলোর এই সম্মিলিত প্রচার কার্যক্রম গণভোটকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি ব্যাংক শাখায় গণভোট সংক্রান্ত দুটি করে ব্যানার টাঙানো হবে। এছাড়া, এই প্রচার কার্যক্রমে ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অর্থ ব্যয়ের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশে গত সপ্তাহ থেকেই গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে প্রচারণায় যুক্ত করা হয়েছে, যা দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গণভোটের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।