ঢাকা ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে খেলতে নারাজ বাংলাদেশ: আইসিসির অনুরোধ সত্ত্বেও অবস্থানে অনড় বিসিবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি বাংলাদেশ। গতকাল এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বিসিবি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় তারা সেখানে খেলতে আগ্রহী নয়। বরং ভারতের বাইরে অন্য কোনো ভেন্যুতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজনের দাবিতে অনড় রয়েছে বোর্ড।

গতকাল অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিসিবির পক্ষে অংশ নেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, দুই সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও শাখাওয়াত হোসেন, ক্রিকেট অপারেশনস চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। বিশ্বকাপ সরানোর ইস্যুতে এটিই ছিল আইসিসির সঙ্গে বিসিবির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। যদিও দীর্ঘ আলোচনার পর গতকাল কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, তবে দুই পক্ষই পুনরায় আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপের সূচি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় এবং হাতে সময় কম থাকায় আইসিসি বিসিবিকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায়। তবে বিসিবি শুরু থেকেই তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে আসছে। এর আগে আইসিসিকে দেওয়া দুটি পৃথক চিঠিতে বাংলাদেশ তাদের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বিস্তারিত উল্লেখ করেছিল। প্রথম চিঠিতে আশঙ্কার কথা জানানো হলেও দ্বিতীয় চিঠিতে সরাসরি ভারতের মাটিতে না খেলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। গতকালের বৈঠকে সেই অনড় অবস্থানের কথাই পুনরায় ব্যক্ত করেছে বিসিবি।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল গত সোমবার জানান, আইসিসির নিজস্ব নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দলের দেওয়া প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ দলের জন্য তিনটি সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দল বা সমর্থকদের জন্য ভারতের মাটি নিরাপদ নয়। বিকল্প হিসেবে তিনি শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজনের প্রস্তাব দেন। একই সুর শোনা গেছে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবরের কণ্ঠেও। এছাড়া বিসিবি সভাপতিও পরোক্ষভাবে শ্রীলঙ্কাকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিসিবির এই কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক একটি ঘটনাও প্রভাব ফেলেছে। বিসিবির যুক্তি অনুযায়ী, ভারত যদি আইপিএল চলাকালীন একজন ক্রিকেটারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে না পারায় তাকে সরিয়ে নিতে হয়, তবে পুরো জাতীয় দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে বিসিবি কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ।

বৈঠক শেষে বিসিবির সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও নড়ব না। ভারতে আমরা যাব না। আইসিসি এ বিষয়ে কঠোর কোনো অবস্থান নেয়নি, বরং আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। আমরা ইতিবাচক ফলের প্রত্যাশা করছি।’ যদিও পরবর্তী বৈঠকের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে দ্রুতই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দাবি মেনে নিয়ে বিকল্প ভেন্যুতেই হতে পারে টাইগারদের বিশ্বকাপ যাত্রা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান-ইসরাইল সংঘাত: ইসরাইলের দাবি, আকাশপথে ২০০০টির বেশি বোমা বর্ষণ

নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে খেলতে নারাজ বাংলাদেশ: আইসিসির অনুরোধ সত্ত্বেও অবস্থানে অনড় বিসিবি

আপডেট সময় : ০৪:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি বাংলাদেশ। গতকাল এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বিসিবি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় তারা সেখানে খেলতে আগ্রহী নয়। বরং ভারতের বাইরে অন্য কোনো ভেন্যুতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজনের দাবিতে অনড় রয়েছে বোর্ড।

গতকাল অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিসিবির পক্ষে অংশ নেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, দুই সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও শাখাওয়াত হোসেন, ক্রিকেট অপারেশনস চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। বিশ্বকাপ সরানোর ইস্যুতে এটিই ছিল আইসিসির সঙ্গে বিসিবির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। যদিও দীর্ঘ আলোচনার পর গতকাল কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, তবে দুই পক্ষই পুনরায় আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপের সূচি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় এবং হাতে সময় কম থাকায় আইসিসি বিসিবিকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায়। তবে বিসিবি শুরু থেকেই তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে আসছে। এর আগে আইসিসিকে দেওয়া দুটি পৃথক চিঠিতে বাংলাদেশ তাদের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বিস্তারিত উল্লেখ করেছিল। প্রথম চিঠিতে আশঙ্কার কথা জানানো হলেও দ্বিতীয় চিঠিতে সরাসরি ভারতের মাটিতে না খেলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। গতকালের বৈঠকে সেই অনড় অবস্থানের কথাই পুনরায় ব্যক্ত করেছে বিসিবি।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল গত সোমবার জানান, আইসিসির নিজস্ব নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দলের দেওয়া প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ দলের জন্য তিনটি সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দল বা সমর্থকদের জন্য ভারতের মাটি নিরাপদ নয়। বিকল্প হিসেবে তিনি শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজনের প্রস্তাব দেন। একই সুর শোনা গেছে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবরের কণ্ঠেও। এছাড়া বিসিবি সভাপতিও পরোক্ষভাবে শ্রীলঙ্কাকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিসিবির এই কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক একটি ঘটনাও প্রভাব ফেলেছে। বিসিবির যুক্তি অনুযায়ী, ভারত যদি আইপিএল চলাকালীন একজন ক্রিকেটারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে না পারায় তাকে সরিয়ে নিতে হয়, তবে পুরো জাতীয় দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে বিসিবি কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ।

বৈঠক শেষে বিসিবির সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও নড়ব না। ভারতে আমরা যাব না। আইসিসি এ বিষয়ে কঠোর কোনো অবস্থান নেয়নি, বরং আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। আমরা ইতিবাচক ফলের প্রত্যাশা করছি।’ যদিও পরবর্তী বৈঠকের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে দ্রুতই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দাবি মেনে নিয়ে বিকল্প ভেন্যুতেই হতে পারে টাইগারদের বিশ্বকাপ যাত্রা।