ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণচেষ্টা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দুলাল আলী মোল্লার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানায় ভুক্তভোগী এক নারী বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে ২০২১ সাল থেকে ওই শিক্ষকের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের এই সম্পর্ক পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা পর্যন্ত গড়ায়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক তার মা অসুস্থ বলে ওই নারীকে চন্দ্রিমা থানার পদ্মা আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ডেকে নেন। সেখানে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তাকে আটকে রেখে বারবার ধর্ষণের চেষ্টা চালান ওই শিক্ষক।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনায় ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, পরদিন ২৮ ডিসেম্বর ভোরে অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে বাসা থেকে চলে যান। পরবর্তীতে জনৈক এক নারীকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আরও তিন সহযোগীসহ তিনি পুনরায় বাসায় ফেরেন। সেখানে ভুক্তভোগীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে বাসার গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী জানান, তিনি আইনি প্রতিকার চেয়ে থানায় মামলা করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তবে বর্তমানে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক দুলাল আলী মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি লোকমুখে শুনলেও বিভাগীয়ভাবে বা থানা থেকে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এক মাসের ছুটিতে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ওই নারী বিষয়টি মৌখিকভাবে জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরান হোসেন জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক থাকায় তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এর বেশি তথ্য দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণচেষ্টা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দুলাল আলী মোল্লার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানায় ভুক্তভোগী এক নারী বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে ২০২১ সাল থেকে ওই শিক্ষকের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের এই সম্পর্ক পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা পর্যন্ত গড়ায়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক তার মা অসুস্থ বলে ওই নারীকে চন্দ্রিমা থানার পদ্মা আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ডেকে নেন। সেখানে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তাকে আটকে রেখে বারবার ধর্ষণের চেষ্টা চালান ওই শিক্ষক।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনায় ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, পরদিন ২৮ ডিসেম্বর ভোরে অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে বাসা থেকে চলে যান। পরবর্তীতে জনৈক এক নারীকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আরও তিন সহযোগীসহ তিনি পুনরায় বাসায় ফেরেন। সেখানে ভুক্তভোগীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে বাসার গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী জানান, তিনি আইনি প্রতিকার চেয়ে থানায় মামলা করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তবে বর্তমানে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক দুলাল আলী মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি লোকমুখে শুনলেও বিভাগীয়ভাবে বা থানা থেকে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এক মাসের ছুটিতে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ওই নারী বিষয়টি মৌখিকভাবে জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরান হোসেন জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক থাকায় তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এর বেশি তথ্য দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।