বাংলার সুদীর্ঘ ইতিহাসে সময় গণনার জন্য বিভিন্ন যুগে বিচিত্র সব সনের প্রচলন ছিল। প্রাচীনকাল থেকেই এই ভূখণ্ডে বিক্রম সম্বৎ ও শকাব্দের মতো সনের ব্যবহার দেখা যায়। পরবর্তীতে পাল ও সেন রাজবংশের শাসনামলে রাজকীয় ফরমান ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে নতুন নতুন সনের প্রবর্তন ঘটে। পাল রাজাদের আমলে কোনো নির্দিষ্ট সূচনাবর্ষ ছাড়াই রাজার রাজত্বকাল অনুযায়ী ‘পালাব্দ’ গণনা করা হতো, যা ছিল তৎকালীন প্রশাসনিক ব্যবস্থার এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।
পাল বংশের পতনের পর সেন রাজবংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনের আমল থেকে ‘লক্ষ্মণ সম্বৎ’ বা ‘লসং’ সনের প্রচলন ঘটে। ঐতিহাসিক সূত্র ও আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরী’ থেকে জানা যায়, সম্রাট আকবরের সময়ও এই সনের প্রচলন ছিল। মধ্যযুগে মুসলিম শাসনের সূচনালগ্নে হিজরি সনের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হলেও প্রান্তিক পর্যায়ে আঞ্চলিক ও প্রাচীন সনগুলো টিকে ছিল। এই সনগুলো কেবল সময় গণনার মাধ্যম নয়, বরং বাংলার প্রাচীন শাসনব্যবস্থা ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিল।
রিপোর্টারের নাম 

























