বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেছেন, দেশে যদি কোনো গণভোটে ‘হ্যাঁ’ রায় বিজয়ী হয়, তাহলে ‘রাতের ভোট’ বলে পরিচিত নির্বাচনী অনিয়মের অধ্যায় চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তার মতে, একটি গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সুস্পষ্ট রায় পেলে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় এমন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, যা অতীতের সকল বিতর্কিত নির্বাচনী সংস্কৃতিকে বিলুপ্ত করতে সক্ষম।
সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় অধ্যাপক রিয়াজ এই মন্তব্য করেন। তিনি তার বক্তব্যে ‘রাতের ভোট’ শব্দবন্ধটিকে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন, যা জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন একটি গণভোট, যেখানে জনমত সুনির্দিষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে যাবে, তা কেবল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং জনগণের সার্বভৌমত্বের এক শক্তিশালী প্রকাশ হিসেবে কাজ করবে।
গণভোটের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে আলী রিয়াজ বলেন, এটি সরাসরি জনগণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি মনে করেন, যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়, তবে সেই রায় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। এর ফলে, ভবিষ্যতে কোনো শক্তিই ‘রাতের ভোট’ বা অন্য কোনো উপায়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার সাহস পাবে না, কারণ তাদের সামনে থাকবে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট।
অধ্যাপক রিয়াজ আরও বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি স্বচ্ছ গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত জনগণের সমর্থন কেবল ‘রাতের ভোট’ বন্ধ করবে না, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এটি রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের প্রতি আরও দায়বদ্ধ হতে উৎসাহিত করবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করবে। তার এই মন্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























