ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নবনির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ওয়াশিংটন কোন পথে হাঁটবে—তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সাইবার হামলা কিংবা সরাসরি সামরিক অভিযানের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হলেও এর ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সেখানে মার্কিন প্রতিক্রিয়ার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিস্তারিত অবহিত করা হতে পারে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে হবু পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বৈঠকে মূলত ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশলগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, তেহরানের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কঠোর সামরিক বা সাইবার পদক্ষেপ নিলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। তবে অন্য একটি পক্ষ এই ধরনের পদক্ষেপের নেতিবাচক প্রভাব ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছে। তাদের মতে, কোনো ধরনের অপরিকল্পিত সামরিক পদক্ষেপ ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা ও সংঘাতের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
মূলত ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রশাসনের এই দ্বিধাবিভক্তি ট্রাম্পের আসন্ন মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর কোনো সামরিক পথ বেছে নেয় নাকি নিষেধাজ্ঞার মতো প্রথাগত পন্থায় সীমাবদ্ধ থাকে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 
























