ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন ভন্ডুলের চক্রান্ত প্রতিহতের আহ্বান ফেমা প্রেসিডেন্টের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফেমার প্রেসিডেন্ট মনিরা খান। তিনি বলেছেন, নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে এবং কোনোভাবেই এটি ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। একটি মহল নির্বাচন ভন্ডুল করার চেষ্টা করছে, যাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা জরুরি।

শুক্রবার রাজধানীর ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

মনিরা খান তার বক্তব্যে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য থ্রি-এম অর্থাৎ মানি (অর্থ), মাসল (পেশিশক্তি) ও ম্যানিপুলেশন (কারচুপি) রোধ করা বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

সাবেক দুই প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা ও হাবিবুল আউয়ালের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েও পদত্যাগ করেননি, বরং শপথ ভঙ্গ করে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কেবল দলীয় মার্কা দেখে নয়, বরং প্রার্থীদের যোগ্যতা ও ইশতেহার দেখে ভোট দেওয়া উচিত। তা না হলে ফ্যাসিবাদ পুনরায় ফিরে আসতে পারে।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বিধানকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানান মনিরা খান। রাজনৈতিক দলগুলোর নারী প্রার্থী মনোনয়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী কোনো নারী প্রার্থী না দেওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আগামী নির্বাচন হবে দীর্ঘদিনের অপশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবলমাত্র ক্ষমতার পালাবদল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য যথেষ্ট নয়; এর জন্য সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। মানুষ এখন শান্তিতে থাকতে চায় এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চায়।

ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা জয়লাভ করেন। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আলবানিজের পরিবারের মামলা: ফিলিস্তিন ইস্যুতে আইনি লড়াই

নির্বাচন ভন্ডুলের চক্রান্ত প্রতিহতের আহ্বান ফেমা প্রেসিডেন্টের

আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফেমার প্রেসিডেন্ট মনিরা খান। তিনি বলেছেন, নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে এবং কোনোভাবেই এটি ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। একটি মহল নির্বাচন ভন্ডুল করার চেষ্টা করছে, যাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা জরুরি।

শুক্রবার রাজধানীর ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

মনিরা খান তার বক্তব্যে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য থ্রি-এম অর্থাৎ মানি (অর্থ), মাসল (পেশিশক্তি) ও ম্যানিপুলেশন (কারচুপি) রোধ করা বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

সাবেক দুই প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা ও হাবিবুল আউয়ালের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েও পদত্যাগ করেননি, বরং শপথ ভঙ্গ করে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কেবল দলীয় মার্কা দেখে নয়, বরং প্রার্থীদের যোগ্যতা ও ইশতেহার দেখে ভোট দেওয়া উচিত। তা না হলে ফ্যাসিবাদ পুনরায় ফিরে আসতে পারে।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বিধানকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানান মনিরা খান। রাজনৈতিক দলগুলোর নারী প্রার্থী মনোনয়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী কোনো নারী প্রার্থী না দেওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আগামী নির্বাচন হবে দীর্ঘদিনের অপশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবলমাত্র ক্ষমতার পালাবদল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য যথেষ্ট নয়; এর জন্য সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। মানুষ এখন শান্তিতে থাকতে চায় এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চায়।

ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা জয়লাভ করেন। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।