ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তুরাগ নদে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত: তীব্র গ্যাস সংকটে নাজেহাল রাজধানীবাসী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর আমিনবাজার সংলগ্ন তুরাগ নদীর তলদেশে প্রধান গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন ঢাকার একটি বিশাল অংশের বাসিন্দারা। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর গাবতলী থেকে শুরু করে ধানমন্ডি পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় রান্নাবান্নার কাজ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, একটি মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে নদীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া মূল বিতরণ পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই লিকেজ মেরামতের উদ্দেশ্যে বুধবার থেকেই গ্যাসের চাপ কমিয়ে কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে মেরামত কাজ অব্যাহত রয়েছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস।

গ্যাসের এই তীব্র সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গাবতলী, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি, বসিলা ও আসাদগেট এলাকায়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চুলা না জ্বলায় গৃহিণীদের চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে। অনেক পরিবারকে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে। আবার অনেকে বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা বা লাকড়ি ব্যবহার করে রান্নার কাজ সারছেন।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. শাহজাহান জানান, সারাদিন চুলায় গ্যাস না থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম বিপদে পড়েছেন তিনি। বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে ধানমন্ডি এলাকাতেও। সেখানকার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বলেন, চুলায় একদমই গ্যাস নেই, তাই ইলেকট্রিক চুলা কিনে কোনোমতে কাজ চালাতে হচ্ছে।

এদিকে ঢাকার এই সংকটের মধ্যেই চট্টগ্রামে এলপিজি গ্যাস নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের কারণে গত দুদিন বাণিজ্যিক রাজধানীতে সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ও হোটেল ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। তবে পরবর্তীকালে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলে সেখানে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তিতাস কর্তৃপক্ষ আশা করছে, খুব দ্রুতই ঢাকার পাইপলাইন মেরামত সম্পন্ন হবে এবং গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সেবা পাবেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আলবানিজের পরিবারের মামলা: ফিলিস্তিন ইস্যুতে আইনি লড়াই

তুরাগ নদে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত: তীব্র গ্যাস সংকটে নাজেহাল রাজধানীবাসী

আপডেট সময় : ০৪:১১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর আমিনবাজার সংলগ্ন তুরাগ নদীর তলদেশে প্রধান গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন ঢাকার একটি বিশাল অংশের বাসিন্দারা। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর গাবতলী থেকে শুরু করে ধানমন্ডি পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় রান্নাবান্নার কাজ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, একটি মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে নদীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া মূল বিতরণ পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই লিকেজ মেরামতের উদ্দেশ্যে বুধবার থেকেই গ্যাসের চাপ কমিয়ে কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে মেরামত কাজ অব্যাহত রয়েছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস।

গ্যাসের এই তীব্র সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গাবতলী, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি, বসিলা ও আসাদগেট এলাকায়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চুলা না জ্বলায় গৃহিণীদের চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে। অনেক পরিবারকে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে। আবার অনেকে বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা বা লাকড়ি ব্যবহার করে রান্নার কাজ সারছেন।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. শাহজাহান জানান, সারাদিন চুলায় গ্যাস না থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম বিপদে পড়েছেন তিনি। বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে ধানমন্ডি এলাকাতেও। সেখানকার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বলেন, চুলায় একদমই গ্যাস নেই, তাই ইলেকট্রিক চুলা কিনে কোনোমতে কাজ চালাতে হচ্ছে।

এদিকে ঢাকার এই সংকটের মধ্যেই চট্টগ্রামে এলপিজি গ্যাস নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের কারণে গত দুদিন বাণিজ্যিক রাজধানীতে সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ও হোটেল ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। তবে পরবর্তীকালে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলে সেখানে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তিতাস কর্তৃপক্ষ আশা করছে, খুব দ্রুতই ঢাকার পাইপলাইন মেরামত সম্পন্ন হবে এবং গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সেবা পাবেন।