যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্টলেক সিটিতে এক গির্জার বাইরে পার্কিং লটে বাগ্বিতণ্ডার জেরে নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুইজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার সল্টলেক সিটির ‘চার্চ অফ জেসাস ক্রাইস্ট অফ ল্যাটার-ডে সেন্টস’ নামক একটি গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরবর্তী স্মরণসভা চলাকালীন এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্কিং লটে কোনো একটি বিষয় নিয়ে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা চরম সহিংসতায় রূপ নেয় এবং গুলিবর্ষণ শুরু হয়।
পুলিশের মুখপাত্র গ্লেন মিলস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই হামলায় মোট আটজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আহত অন্যদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে হতাহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
স্মরণসভা চলাকালীন এমন আকস্মিক হামলায় গির্জা প্রাঙ্গণে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গুলির শব্দ শোনার পর সবাই দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে বড় ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে। এই তদন্তে স্থানীয় পুলিশকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিত হামলা নয়। বরং ব্যক্তিগত ঝগড়ার জের ধরেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গির্জা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, উপাসনার মতো পবিত্র স্থানে এমন সহিংসতা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
সল্টলেক সিটির মেয়র এই ঘটনাকে শহরের জন্য একটি অত্যন্ত কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশ ও ডগ স্কোয়াডের সহায়তায় সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতার বিষয়টি দিন দিন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে গণ-গুলিবর্ষণের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সল্টলেক সিটির এই ঘটনাটি নতুন করে মার্কিন জননিরাপত্তা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
রিপোর্টারের নাম 






















