ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পূর্ব জেরুজালেমে ৩ হাজার ৪০০ নতুন ইহুদি বসতি নির্মাণের ঘোষণা দিল ইসরায়েল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃত পূর্ব জেরুজালেমে নতুন করে ৩ হাজার ৪০১টি ইহুদি বসতি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ইসরায়েল। বসতি স্থাপনের এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশন গত বুধবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমের ই-ওয়ান নামক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই নতুন বাড়িগুলো নির্মাণ করা হবে। কৌশলগতভাবে এই অঞ্চলটি ফিলিস্তিনিদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের, কারণ এটি পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি মারে আদুমিন শহরের সাথে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রক্ষাকারী করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে নতুন বসতি গড়ে তোলা হলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব আরও পাকাপোক্ত হবে এবং ফিলিস্তিনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা চরম সংকটে পড়বে।

ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের প্রধান মুআয়াদ শাবান তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজিন্সিকে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে গত প্রায় তিন দশক এই এলাকায় বড় ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। তবে চলমান গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে দখলদারিত্ব বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। তিনি উল্লেখ করেন, এই আবাসিক প্রকল্পটি মূলত ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেই ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

ঐতিহাসিকভাবে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ যখন ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল নামের দুটি পৃথক রাষ্ট্রের প্রস্তাব দেয়, তখন পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে শহরটির এই অংশটি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে ইসরায়েল।

মুআয়াদ শাবান অভিযোগ করেন, মূলত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা কমিয়ে এলাকাটিকে পশ্চিম তীরের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত এক বছরে ইসরায়েলের এই দখলদারিত্বের প্রবণতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য মোট ১০ হাজার ৯৮টি বাড়ি নির্মাণের টেন্ডার অনুমোদন করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধানমন্ডিতে ‘মুজিবপ্রেমিক বাংলার নারীরা’ ব্যানারে ঝটিকা মিছিল: ৮ জন আটক

পূর্ব জেরুজালেমে ৩ হাজার ৪০০ নতুন ইহুদি বসতি নির্মাণের ঘোষণা দিল ইসরায়েল

আপডেট সময় : ০৩:১১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃত পূর্ব জেরুজালেমে নতুন করে ৩ হাজার ৪০১টি ইহুদি বসতি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ইসরায়েল। বসতি স্থাপনের এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশন গত বুধবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমের ই-ওয়ান নামক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই নতুন বাড়িগুলো নির্মাণ করা হবে। কৌশলগতভাবে এই অঞ্চলটি ফিলিস্তিনিদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের, কারণ এটি পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি মারে আদুমিন শহরের সাথে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রক্ষাকারী করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে নতুন বসতি গড়ে তোলা হলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব আরও পাকাপোক্ত হবে এবং ফিলিস্তিনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা চরম সংকটে পড়বে।

ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের প্রধান মুআয়াদ শাবান তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজিন্সিকে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে গত প্রায় তিন দশক এই এলাকায় বড় ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। তবে চলমান গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে দখলদারিত্ব বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। তিনি উল্লেখ করেন, এই আবাসিক প্রকল্পটি মূলত ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেই ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

ঐতিহাসিকভাবে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ যখন ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল নামের দুটি পৃথক রাষ্ট্রের প্রস্তাব দেয়, তখন পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে শহরটির এই অংশটি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে ইসরায়েল।

মুআয়াদ শাবান অভিযোগ করেন, মূলত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা কমিয়ে এলাকাটিকে পশ্চিম তীরের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত এক বছরে ইসরায়েলের এই দখলদারিত্বের প্রবণতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য মোট ১০ হাজার ৯৮টি বাড়ি নির্মাণের টেন্ডার অনুমোদন করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।