ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা দিল্লি উত্তেজনা তুঙ্গে, ভারতের নতুন বার্তা ::

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ভবিষ্যতের নতুন সমীকরণ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে বিরাজমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও আসন্ন সাধারণ নির্বাচন দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে একটি নতুন পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যানের এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

কুগেলম্যান মনে করেন, দীর্ঘদিনের তিক্ততা কাটিয়ে ভারত এখন বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য সরকারের প্রতি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সশরীরে উপস্থিতিকে দিল্লির এই কৌশলগত পরিবর্তনের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট থেকে বিএনপির সরে আসা দিল্লির কাছে দলটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের অবনতি দৃশ্যমান হয়। এই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে ক্রীড়াঙ্গনেও। বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ এবং ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের মতো বিষয়গুলো দুই দেশের বর্তমান দূরত্বের চিত্র ফুটিয়ে তুলছে।

সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। একদিকে বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশ মনে করে ভারত দীর্ঘদিন তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে ভারতের ধারণা, হাসিনাবিহীন বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের প্রভাব বাড়তে পারে। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় প্রদান এবং তাকে হস্তান্তরে দিল্লির অনীহা ঢাকার অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে।

তবে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বই এখন নতুন করে ভাবছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জাতীয় ঐক্যের ডাক এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়ে দেওয়া আশ্বাস ভারতকে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ভারতের সঙ্গে সমঅধিকারভিত্তিক সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দুই দেশের জন্য সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরুর বড় সুযোগ। ভারত ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত যেকোনো সরকারের সঙ্গেই তারা কাজ করতে প্রস্তুত। তবে এই সুসম্পর্ক ফিরিয়ে আনা নির্ভর করবে উভয় দেশের নেতৃত্বের সাহসিকতা ও বাস্তবমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর। সাধারণ মানুষের আবেগ ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সমন্বয় করে একটি স্থিতিশীল ও মর্যাদাশীল সম্পর্ক গড়ে তোলাই এখন ঢাকা ও দিল্লির সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান সীমান্তে যুদ্ধের দামামা: সামরিক শক্তিতে পাকিস্তানের ধারেকাছেও নেই আফগানিস্তান

ঢাকা দিল্লি উত্তেজনা তুঙ্গে, ভারতের নতুন বার্তা ::

আপডেট সময় : ০২:০২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ভবিষ্যতের নতুন সমীকরণ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে বিরাজমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও আসন্ন সাধারণ নির্বাচন দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে একটি নতুন পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যানের এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

কুগেলম্যান মনে করেন, দীর্ঘদিনের তিক্ততা কাটিয়ে ভারত এখন বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য সরকারের প্রতি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সশরীরে উপস্থিতিকে দিল্লির এই কৌশলগত পরিবর্তনের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট থেকে বিএনপির সরে আসা দিল্লির কাছে দলটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের অবনতি দৃশ্যমান হয়। এই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে ক্রীড়াঙ্গনেও। বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ এবং ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের মতো বিষয়গুলো দুই দেশের বর্তমান দূরত্বের চিত্র ফুটিয়ে তুলছে।

সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। একদিকে বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশ মনে করে ভারত দীর্ঘদিন তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে ভারতের ধারণা, হাসিনাবিহীন বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের প্রভাব বাড়তে পারে। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় প্রদান এবং তাকে হস্তান্তরে দিল্লির অনীহা ঢাকার অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে।

তবে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বই এখন নতুন করে ভাবছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জাতীয় ঐক্যের ডাক এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়ে দেওয়া আশ্বাস ভারতকে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ভারতের সঙ্গে সমঅধিকারভিত্তিক সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দুই দেশের জন্য সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরুর বড় সুযোগ। ভারত ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত যেকোনো সরকারের সঙ্গেই তারা কাজ করতে প্রস্তুত। তবে এই সুসম্পর্ক ফিরিয়ে আনা নির্ভর করবে উভয় দেশের নেতৃত্বের সাহসিকতা ও বাস্তবমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর। সাধারণ মানুষের আবেগ ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সমন্বয় করে একটি স্থিতিশীল ও মর্যাদাশীল সম্পর্ক গড়ে তোলাই এখন ঢাকা ও দিল্লির সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।