অর্থনৈতিক সংকটের জেরে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন তীব্র সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। গত ১১ দিনের বিক্ষোভে দেশটির বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩৪ জন আন্দোলনকারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। বুধবার রাতেও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় ১১১টি শহরে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চারজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা টিয়ার গ্যাস ও গুলির জবাবে পাথর ছুড়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর যেমন তেহরান, মাশহাদ ও বন্দর আব্বাসে সরকারবিরোধী স্লোগানে রাজপথ উত্তাল হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীরা বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের পদত্যাগ দাবি করছেন।
এই অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইরানি মুদ্রার ভয়াবহ দরপতন এবং আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি। উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে গণজাগরণে পরিণত হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নাগরিকদের জন্য বিশেষ ভাতার ঘোষণা দিয়েছে, তবে তাতে জনগণের ক্ষোভ কমছে না।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলেও এই আন্দোলন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে ইরানের বিচার বিভাগ আন্দোলনকারীদের দাঙ্গাকারী আখ্যা দিয়ে কঠোর শাস্তির নির্দেশ জারি করেছে। ২০২২ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনের পর বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর জন্য এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















