ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসরায়েলের হামলার আগেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

ইরান তাদের আঞ্চলিক শত্রুদের বিরুদ্ধে আগাম হামলার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তেহরানের এই অবস্থান নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। দেশটির নবগঠিত ইরানিয়ান ডিফেন্স কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো হস্তক্ষেপ বা অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

কাউন্সিল স্পষ্ট করেছে যে, তারা কেবল আক্রান্ত হওয়ার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য বসে থাকবে না। বরং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো দৃশ্যমান হুমকির লক্ষণ দেখা মাত্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের পর গঠিত এই কাউন্সিল সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা তাদের কাছে একটি চূড়ান্ত সীমা বা রেডলাইন।

ইরানের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল যখন দেশটি অভ্যন্তরীণভাবে বেশ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার মানের পতনের ফলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই করতে দুই দিনের সামরিক মহড়া সম্পন্ন করেছে। বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা না হলেও এটি যে মূলত ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনাকে এক ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নিলে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি তেলের বাজারেও চরম অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে মার্কিন বাহিনীর আটক করার ঘটনা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও বেশি সতর্ক ও আক্রমণাত্মক করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কোনো গোয়েন্দা বা সামরিক অভিযান রুখতেই ইরান এই আগাম হামলার কৌশল নিয়েছে। তবে এই নীতি সরাসরি কার্যকর করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধানমন্ডিতে ‘মুজিবপ্রেমিক বাংলার নারীরা’ ব্যানারে ঝটিকা মিছিল: ৮ জন আটক

ইসরায়েলের হামলার আগেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

আপডেট সময় : ১১:৪৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ইরান তাদের আঞ্চলিক শত্রুদের বিরুদ্ধে আগাম হামলার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তেহরানের এই অবস্থান নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। দেশটির নবগঠিত ইরানিয়ান ডিফেন্স কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো হস্তক্ষেপ বা অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

কাউন্সিল স্পষ্ট করেছে যে, তারা কেবল আক্রান্ত হওয়ার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য বসে থাকবে না। বরং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো দৃশ্যমান হুমকির লক্ষণ দেখা মাত্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের পর গঠিত এই কাউন্সিল সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা তাদের কাছে একটি চূড়ান্ত সীমা বা রেডলাইন।

ইরানের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল যখন দেশটি অভ্যন্তরীণভাবে বেশ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার মানের পতনের ফলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই করতে দুই দিনের সামরিক মহড়া সম্পন্ন করেছে। বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা না হলেও এটি যে মূলত ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনাকে এক ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নিলে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি তেলের বাজারেও চরম অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে মার্কিন বাহিনীর আটক করার ঘটনা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও বেশি সতর্ক ও আক্রমণাত্মক করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কোনো গোয়েন্দা বা সামরিক অভিযান রুখতেই ইরান এই আগাম হামলার কৌশল নিয়েছে। তবে এই নীতি সরাসরি কার্যকর করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।