আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি সাংবিধানিক গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এই গণভোট নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো ধরনের সক্রিয় প্রচারণায় না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, বিএনপির মূল ফোকাস এখন একান্তভাবেই সংসদ নির্বাচন। গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোট চাওয়ার মতো কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে না গিয়ে তারা বিষয়টিকে জনগণের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে।
বিএনপির এই নিস্পৃহ অবস্থানের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেখছেন বিশ্লেষকরা:
- রাজনৈতিক বিভাজন এড়ানো: বিএনপি মনে করে, সংস্কারের প্রশ্নে জোর করে গণভোট চাপিয়ে দিলে তা রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
- জোটের ঐক্য রক্ষা: গণভোটের নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের অবস্থান নিলে জোটের শরিকদের মধ্যে থাকা মতভেদ প্রকাশ্যে চলে আসার ঝুঁকি রয়েছে।
- নির্বাচনী রাজনীতি রক্ষা: নির্বাচনকে ছাপিয়ে গণভোট সামনে এলে মূল নির্বাচনী লড়াই দুর্বল হয়ে যেতে পারে বলে দলটির আশঙ্কা।
অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, গণভোটে ভোটারদের মতামত নেওয়া হবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর ওপর। এর আওতায় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ৩০টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিএনপি সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্যে থাকলেও ‘বাস্তবায়ন আদেশে’ রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতগুলো বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিএনপি সংস্কারের বিরোধী নয়, তবে একতরফাভাবে জারি করা আদেশের অনেক বিষয়ের সাথে তারা একমত হতে পারছে না।
বিএনপির দাবি, জুলাই সনদের সেই পাদটীকাটি বহাল রাখা হোক যেখানে বলা হয়েছিল—সংস্কারের যেসব বিষয়ে দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে, তারা নির্বাচনে জয়ী হলে সংসদে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। যেহেতু গণভোটে সব প্রস্তাবের ওপর একত্রে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে, তাই কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও ভোটারদের পুরো প্যাকেজটিই গ্রহণ বা বর্জন করতে হবে। এই জটিলতার কারণে বিএনপি সরাসরি কোনো প্রচারণা না চালিয়ে বরং তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাই সনদের প্রসঙ্গ এবং নিজেদের ভিন্নমতের বিষয়টি স্পষ্ট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























