ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

শোকাতুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: বিষাদ ডিঙিয়ে আগামীর পথে তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে এক বুক বেদনা নিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যেমন রাজনৈতিকভাবে ছিল উৎসবমুখর, ব্যক্তিগতভাবে তেমনি ছিল গভীর শোকের চাদরে ঢাকা। ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ট্রাভেল পাসে স্ত্রী ও কন্যাসহ দেশে ফেরার সময় তাঁর কাঁধে ছিল ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যুর শূন্যতা এবং মৃত্যুশয্যায় থাকা মা বেগম খালেদা জিয়ার উদ্বেগ। দেশে ফিরেই তাঁকে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার পাশাপাশি পরম মমতায় মায়ের শয্যাপাশে ছুটতে হয়েছে। কিন্তু নিয়তির অমোঘ বিধানে দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ৩০ ডিসেম্বর তিনি তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ছায়ারূপী মাকেও চিরতরে হারান।

তারেক রহমানের জীবনপ্রবাহ যেন বারবার ব্যক্তিগত বিয়োগান্তক ঘটনার মধ্য দিয়েই এগিয়েছে। কৈশোরে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হারানো থেকে শুরু করে ওয়ান-ইলেভেনের কারানির্যাতন—সবই তাঁকে লড়াকু হিসেবে গড়ে তুলেছে। ২০০৮ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ এক যুগ দূর পরবাসে থেকেও তিনি বিএনপির ঐক্য অটুট রেখেছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আইনি বাধা পেরিয়ে যখন তিনি ফিরলেন, তখন তাঁর ফেলে যাওয়া সেই চিরচেনা পরিবারটি আর আগের মতো ছিল না। ভাই নেই, ভাইয়ের স্ত্রী বিধবা, সন্তানরা এতিম এবং মায়ের অন্তিম বিদায়—সব মিলিয়ে এই ফেরা তারেক রহমানের জন্য আনন্দের চেয়ে শোকের সাগরে নিমজ্জনের নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মায়ের মৃত্যুর পর ১ জানুয়ারি এক আবেগঘন ফেসবুক বার্তায় তারেক রহমান তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, “নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে পুরো বাংলাদেশই এখন আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।” বাবার মৃত্যু এবং ভাইয়ের অভাবকে স্মরণ করে তিনি দেশবাসীর অফুরান ভালোবাসার মধ্যেই শোক কাটে ওঠার শক্তি খুঁজছেন। ৩১ ডিসেম্বর শেরেবাংলা নগরে মায়ের স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে তিনি নিজেকে নতুন এক ঐতিহাসিক দায়িত্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দেখতে পাচ্ছেন। যে রাজনৈতিক দলের হাল তাঁর মা দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে শক্ত হাতে ধরেছিলেন, এখন সেই দায়বদ্ধতা ও উত্তরাধিকার পুরোপুরি তাঁর কাঁধে।

সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিশাল চ্যালেঞ্জ। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তারেক রহমান এখন আগামীর রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের স্বপ্নে বিভোর। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে তাঁর মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখান থেকেই তিনি জনমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে এগিয়ে নেবেন। ব্যক্তিগত জীবনের বিপুল হারানো আর রাজনীতির বন্ধুর পথ—দুইয়ে মিলে তারেক রহমান এখন কেবল একটি দলের নেতা নন, বরং তাঁর কাছে পুরো বাংলাদেশই এক বিশাল পরিবার, যাদের ভরসা ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে তিনি আগামীর পথে পা বাড়াচ্ছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের ছোবলে মৃত্যু ২০০-র পথে: বাড়ছে উদ্বেগ ও সংক্রমণ

শোকাতুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: বিষাদ ডিঙিয়ে আগামীর পথে তারেক রহমান

আপডেট সময় : ১২:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে এক বুক বেদনা নিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যেমন রাজনৈতিকভাবে ছিল উৎসবমুখর, ব্যক্তিগতভাবে তেমনি ছিল গভীর শোকের চাদরে ঢাকা। ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ট্রাভেল পাসে স্ত্রী ও কন্যাসহ দেশে ফেরার সময় তাঁর কাঁধে ছিল ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যুর শূন্যতা এবং মৃত্যুশয্যায় থাকা মা বেগম খালেদা জিয়ার উদ্বেগ। দেশে ফিরেই তাঁকে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার পাশাপাশি পরম মমতায় মায়ের শয্যাপাশে ছুটতে হয়েছে। কিন্তু নিয়তির অমোঘ বিধানে দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ৩০ ডিসেম্বর তিনি তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ছায়ারূপী মাকেও চিরতরে হারান।

তারেক রহমানের জীবনপ্রবাহ যেন বারবার ব্যক্তিগত বিয়োগান্তক ঘটনার মধ্য দিয়েই এগিয়েছে। কৈশোরে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হারানো থেকে শুরু করে ওয়ান-ইলেভেনের কারানির্যাতন—সবই তাঁকে লড়াকু হিসেবে গড়ে তুলেছে। ২০০৮ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ এক যুগ দূর পরবাসে থেকেও তিনি বিএনপির ঐক্য অটুট রেখেছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আইনি বাধা পেরিয়ে যখন তিনি ফিরলেন, তখন তাঁর ফেলে যাওয়া সেই চিরচেনা পরিবারটি আর আগের মতো ছিল না। ভাই নেই, ভাইয়ের স্ত্রী বিধবা, সন্তানরা এতিম এবং মায়ের অন্তিম বিদায়—সব মিলিয়ে এই ফেরা তারেক রহমানের জন্য আনন্দের চেয়ে শোকের সাগরে নিমজ্জনের নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মায়ের মৃত্যুর পর ১ জানুয়ারি এক আবেগঘন ফেসবুক বার্তায় তারেক রহমান তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, “নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে পুরো বাংলাদেশই এখন আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।” বাবার মৃত্যু এবং ভাইয়ের অভাবকে স্মরণ করে তিনি দেশবাসীর অফুরান ভালোবাসার মধ্যেই শোক কাটে ওঠার শক্তি খুঁজছেন। ৩১ ডিসেম্বর শেরেবাংলা নগরে মায়ের স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে তিনি নিজেকে নতুন এক ঐতিহাসিক দায়িত্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দেখতে পাচ্ছেন। যে রাজনৈতিক দলের হাল তাঁর মা দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে শক্ত হাতে ধরেছিলেন, এখন সেই দায়বদ্ধতা ও উত্তরাধিকার পুরোপুরি তাঁর কাঁধে।

সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিশাল চ্যালেঞ্জ। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তারেক রহমান এখন আগামীর রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের স্বপ্নে বিভোর। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে তাঁর মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখান থেকেই তিনি জনমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে এগিয়ে নেবেন। ব্যক্তিগত জীবনের বিপুল হারানো আর রাজনীতির বন্ধুর পথ—দুইয়ে মিলে তারেক রহমান এখন কেবল একটি দলের নেতা নন, বরং তাঁর কাছে পুরো বাংলাদেশই এক বিশাল পরিবার, যাদের ভরসা ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে তিনি আগামীর পথে পা বাড়াচ্ছেন।