ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, গত ২৫ বছর ধরে এই এলাকার মানুষ ধানের শীষের কোনো প্রকৃত প্রার্থী পায়নি। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কুচনী গ্রামে এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রুমিন ফারহানা বলেন, ২০১৮ সালে দল থেকে উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঞা জয়লাভ করলেও তিনি পরে আদর্শ বিচ্যুত হয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রাণের দাবি ছিল দলের নিজস্ব প্রার্থী পাওয়ার, কিন্তু তা না করে বারবার ‘ভাড়া করা’ প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আসনটি বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, “শরিক দলের প্রার্থীর প্রতীক খেজুর গাছ। এখন প্রচার করা হচ্ছে ধানই নাকি খেজুর গাছ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, হাঁস যেমন কখনো বাঘ হয় না, তেমনি খেজুর গাছও কখনো ধান হতে পারে না।” তিনি ধানকে মানুষের প্রাণের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, গত ১৭ বছর যখন বড় বড় নেতারা ভয়ে ফোন বন্ধ করে রেখেছিলেন, তখন তিনি একাই শেখ হাসিনা সরকারের চোখে চোখ রেখে কথা বলেছেন। জেল-জুলুমের ভয়ে যখন নেতাকর্মীরা ধানক্ষেত ও বিলে রাত কাটিয়েছেন, তখন তাঁর কণ্ঠস্বরই তাদের সাহস জুগিয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে লড়ছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি ইতোমধ্যে রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার করেছে। তবে বহিষ্কারের তোয়াক্কা না করে রুমিন ফারহানা তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত এই এলাকাকে টেন্ডারবাজ ও দখলবাজ মুক্ত করে একটি আধুনিক মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। ভোটাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিপদের দিনে যেমন তিনি পাশে ছিলেন, ভোটাররাও যেন এই নির্বাচনে তাঁর পাশ থেকে সরে না যান।
রিপোর্টারের নাম 

























