ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

জামায়াতের সঙ্গে জোট: পদত্যাগীদের ফেরাতে মরিয়া এনসিপি নেতৃত্ব

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী মোর্চায় যুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছিল, তা মেরামতের চেষ্টা শুরু করেছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রতিবাদে ১১ দিনে যে ১৬ জন প্রভাবশালী নেতা পদত্যাগ করেছিলেন, তাদের কাউকেই দল থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। এনসিপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, নেতাদের এই পদত্যাগ ছিল একটি ‘তাৎক্ষণিক আবেগীয় প্রতিক্রিয়া’। যুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমে তাদের আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

এনসিপি গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতের সঙ্গে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেও এর আগেই দলের ভেতরে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। বিশেষ করে দলের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ তাসনিম জারা এবং তাঁর স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহসহ ৩০ জন নেতা জামায়াতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। তাসনিম জারা বর্তমানে এনসিপির বাইরে গিয়ে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন, যদিও তাঁর মনোনয়ন আপাতত বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে, মীর আরশাদুল হকের মতো নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে দল ছেড়েছেন। এই পদত্যাগের তালিকায় উত্তরাঞ্চলের সংগঠক আজাদ খান ভাসানী এবং দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক ওয়াহিদুজ্জামানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা থাকায় এনসিপির মধ্যপন্থী ভাবমূর্তি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, পদত্যাগকারী নেতাদের ফিরিয়ে আনতে গত শুক্রবার একটি গোপন বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা সফল হয়নি। দলের ভেতরে একটি অংশ চাচ্ছে জামায়াতবিরোধীরা যেন আর ফিরতে না পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এনসিপি নেতৃত্ব মনে করছেন, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার কৌশলগত কারণগুলো মাঠপর্যায়ের নেতাদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছানো যায়নি বলেই এই ভুল বোঝাবুঝি। তবে তাসনিম জারার মতো হেভিওয়েট নেতারা ফিরে না এলে এবং মনিরা শারমিনের মতো নেত্রীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে এনসিপি ও এবি পার্টির সমন্বয়ে গড়া ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের ছোবলে মৃত্যু ২০০-র পথে: বাড়ছে উদ্বেগ ও সংক্রমণ

জামায়াতের সঙ্গে জোট: পদত্যাগীদের ফেরাতে মরিয়া এনসিপি নেতৃত্ব

আপডেট সময় : ১২:২৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী মোর্চায় যুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছিল, তা মেরামতের চেষ্টা শুরু করেছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রতিবাদে ১১ দিনে যে ১৬ জন প্রভাবশালী নেতা পদত্যাগ করেছিলেন, তাদের কাউকেই দল থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। এনসিপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, নেতাদের এই পদত্যাগ ছিল একটি ‘তাৎক্ষণিক আবেগীয় প্রতিক্রিয়া’। যুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমে তাদের আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

এনসিপি গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতের সঙ্গে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেও এর আগেই দলের ভেতরে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। বিশেষ করে দলের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ তাসনিম জারা এবং তাঁর স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহসহ ৩০ জন নেতা জামায়াতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। তাসনিম জারা বর্তমানে এনসিপির বাইরে গিয়ে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন, যদিও তাঁর মনোনয়ন আপাতত বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে, মীর আরশাদুল হকের মতো নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে দল ছেড়েছেন। এই পদত্যাগের তালিকায় উত্তরাঞ্চলের সংগঠক আজাদ খান ভাসানী এবং দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক ওয়াহিদুজ্জামানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা থাকায় এনসিপির মধ্যপন্থী ভাবমূর্তি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, পদত্যাগকারী নেতাদের ফিরিয়ে আনতে গত শুক্রবার একটি গোপন বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা সফল হয়নি। দলের ভেতরে একটি অংশ চাচ্ছে জামায়াতবিরোধীরা যেন আর ফিরতে না পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এনসিপি নেতৃত্ব মনে করছেন, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার কৌশলগত কারণগুলো মাঠপর্যায়ের নেতাদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছানো যায়নি বলেই এই ভুল বোঝাবুঝি। তবে তাসনিম জারার মতো হেভিওয়েট নেতারা ফিরে না এলে এবং মনিরা শারমিনের মতো নেত্রীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে এনসিপি ও এবি পার্টির সমন্বয়ে গড়া ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।