সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছেন যে ভেনেজুয়েলা ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারমূল্যে বিক্রি হওয়া এই তেলের সমুদয় অর্থ নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সম্প্রতি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ‘নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল’ যুক্তরাষ্ট্রকে দেবে। তেল বাজারমূল্যে বিক্রি করা হবে এবং এর থেকে প্রাপ্ত অর্থ তিনিই (যুক্তরাষ্ট্র) নিয়ন্ত্রণ করবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এই অর্থ ব্যবহার করা হবে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে।
ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তৎকালীন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা যায়, তেল ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে এবং এর বেশিরভাগই জাহাজে করে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলের শোধনাগারগুলোতে নেওয়া হবে। ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা কঠিন হওয়ায় দ্রুত এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রের মোট জ্বালানি চাহিদার তুলনায় খুব বেশি নয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুদ থেকে ১৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড় দিয়েছিলেন, যার ফলে গ্যাসের দাম গড়ে মাত্র ১৩ থেকে ৩১ সেন্ট কমেছিল।
এদিকে, এত বিপুল পরিমাণ তেল হস্তান্তরে ভেনেজুয়েলার নিজস্ব তেল রিজার্ভ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশটির মজুদ প্রায় পূর্ণ থাকলেও, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে তেল সংকটের কারণ হতে পারে। তাদের মতে, এর ফলে বৈশ্বিক তেলবাজারে সামান্য প্রভাব পড়লেও, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যৎ তেল রিজার্ভ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























