ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাজ্য কয়েক’শ আওয়ামী লীগ নেতার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৯:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নাটকীয় পটপরিবর্তনে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরা এখন রাজনৈতিক আশ্রয়ের আশায় প্রবাসে দিন কাটাচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় নেতাসহ কয়েক শ নেতাকর্মী বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। আশ্রয়প্রার্থীদের এই তালিকায় রয়েছেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, সাবেক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এবং সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ আরও অনেক শীর্ষ নেতা।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ এবং স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শুধু কেন্দ্রীয় নেতাই নন, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতারাও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে দেশ ছেড়েছেন। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট রণজিৎ সরকার, হবিগঞ্জের আবু জাহির এবং সিলেট ও কুমিল্লার জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। এছাড়া যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীও ব্রিটিশ সরকারের কাছে আশ্রয়ের আবেদন জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই আবেদনগুলো বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ও আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে এবং প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুক জানান, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর মতে, সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও মেয়র পর্যায়ের অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শীর্ষ নেতা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ে আছেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, আবেদনকারীদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন আগে থেকেই ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন, বাকিরা প্রাণ বাঁচাতে এখন রাজনৈতিক আশ্রয়ের ওপর নির্ভরশীল। ব্রিটিশ সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের এই আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছেন দলীয় নেতারা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং: জনজীবনে চরম নাভিশ্বাস

যুক্তরাজ্য কয়েক’শ আওয়ামী লীগ নেতার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন

আপডেট সময় : ০৪:২৯:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নাটকীয় পটপরিবর্তনে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরা এখন রাজনৈতিক আশ্রয়ের আশায় প্রবাসে দিন কাটাচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় নেতাসহ কয়েক শ নেতাকর্মী বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। আশ্রয়প্রার্থীদের এই তালিকায় রয়েছেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, সাবেক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এবং সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ আরও অনেক শীর্ষ নেতা।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ এবং স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শুধু কেন্দ্রীয় নেতাই নন, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতারাও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে দেশ ছেড়েছেন। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট রণজিৎ সরকার, হবিগঞ্জের আবু জাহির এবং সিলেট ও কুমিল্লার জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। এছাড়া যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীও ব্রিটিশ সরকারের কাছে আশ্রয়ের আবেদন জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই আবেদনগুলো বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ও আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে এবং প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুক জানান, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর মতে, সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও মেয়র পর্যায়ের অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শীর্ষ নেতা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ে আছেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, আবেদনকারীদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন আগে থেকেই ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন, বাকিরা প্রাণ বাঁচাতে এখন রাজনৈতিক আশ্রয়ের ওপর নির্ভরশীল। ব্রিটিশ সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের এই আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছেন দলীয় নেতারা।