ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জবি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদকে হত্যার দায় স্বীকার করলেন ছাত্রী ও মাহির: পুলিশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেনকে হত্যার দায় প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্ত ছাত্রী ও মাহির রহমান। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল আরও এক মাস আগে।

অভিযুক্ত ছাত্রী ও মাহিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই এসব তথ্য পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে বংশাল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত ছাত্রী ও মাহিরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়টি তারা নিশ্চিত হন।

ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্কের ইতি টেনে টিউশনির শিক্ষক জোবায়েদ হোসেনকে পছন্দ করেন তার ওই ছাত্রী। বিষয়টি তিনি তার প্রাক্তন প্রেমিক মাহির রহমানকে সরাসরি জানান। তবে সম্প্রতি জোবায়েদের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন ওই মেয়েটি। এরপরই গত ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি এবং মাহির একসঙ্গে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

ওসি আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত রোববার সন্ধ্যার আগে টিউশনিতে যাওয়ার সময় আরমানিটোলার নুরবক্স রোডের রৌশান ভিলার নিচে মাহির ছুরিকাঘাত করে জোবায়েদকে হত্যা করেন। এ সময় তার বন্ধু ফারদিন আহম্মেদ আয়লান মাহিরকে সহযোগিতা করেন। জোবায়েদের অবস্থানসহ সার্বিক বিষয়ে ওই ছাত্রী তাদের সহযোগিতা করেন।

জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি একইসঙ্গে জবিস্থ কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যও ছিলেন। গত এক বছর ধরে জোবায়েদ হোসাইন পুরান ঢাকার আরমানীটোলায় নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা নামের একটি বাসায় বর্ষা নামে এক ছাত্রীকে ফিজিক্স, ক্যামেস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন। রোববার আনুমানিক বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে ছাত্রীর বাসার তিন তলায় তিনি খুন হন। বাসার নিচ তলার সিঁড়ি থেকে তিন তলা পর্যন্ত সিঁড়িতে রক্ত লেগেছিল। তিন তলার সিঁড়িতে তাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সে রাতেই পুলিশ ওই মেয়েকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপরের দিন প্রধান আসামি মাহির রহমান ও তার সহযোগী ফারদিন আহম্মেদ আয়লানকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

জবি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদকে হত্যার দায় স্বীকার করলেন ছাত্রী ও মাহির: পুলিশ

আপডেট সময় : ১০:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেনকে হত্যার দায় প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্ত ছাত্রী ও মাহির রহমান। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল আরও এক মাস আগে।

অভিযুক্ত ছাত্রী ও মাহিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই এসব তথ্য পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে বংশাল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত ছাত্রী ও মাহিরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়টি তারা নিশ্চিত হন।

ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্কের ইতি টেনে টিউশনির শিক্ষক জোবায়েদ হোসেনকে পছন্দ করেন তার ওই ছাত্রী। বিষয়টি তিনি তার প্রাক্তন প্রেমিক মাহির রহমানকে সরাসরি জানান। তবে সম্প্রতি জোবায়েদের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন ওই মেয়েটি। এরপরই গত ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি এবং মাহির একসঙ্গে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

ওসি আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত রোববার সন্ধ্যার আগে টিউশনিতে যাওয়ার সময় আরমানিটোলার নুরবক্স রোডের রৌশান ভিলার নিচে মাহির ছুরিকাঘাত করে জোবায়েদকে হত্যা করেন। এ সময় তার বন্ধু ফারদিন আহম্মেদ আয়লান মাহিরকে সহযোগিতা করেন। জোবায়েদের অবস্থানসহ সার্বিক বিষয়ে ওই ছাত্রী তাদের সহযোগিতা করেন।

জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি একইসঙ্গে জবিস্থ কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যও ছিলেন। গত এক বছর ধরে জোবায়েদ হোসাইন পুরান ঢাকার আরমানীটোলায় নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা নামের একটি বাসায় বর্ষা নামে এক ছাত্রীকে ফিজিক্স, ক্যামেস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন। রোববার আনুমানিক বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে ছাত্রীর বাসার তিন তলায় তিনি খুন হন। বাসার নিচ তলার সিঁড়ি থেকে তিন তলা পর্যন্ত সিঁড়িতে রক্ত লেগেছিল। তিন তলার সিঁড়িতে তাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সে রাতেই পুলিশ ওই মেয়েকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপরের দিন প্রধান আসামি মাহির রহমান ও তার সহযোগী ফারদিন আহম্মেদ আয়লানকেও গ্রেপ্তার করা হয়।